বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপির ‘স্পেশ্যাল ২৬’ এবং দর্পচূর্ণ হল তৃণমূলের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election Result) ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হল পশ্চিমবঙ্গ। অঙ্গ অর্থাৎ বিহার কলিঙ্গ অর্থাৎ উড়িষ্যার পর এবার বঙ্গ অর্থাৎ বাংলা জয় বিজেপির। বলে বলে বিজেপির কাছে দশ গোল খেল তৃণমূল। আর প্রত্যাবর্তন হল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তাঁর দলও ক্ষমতায় ফিরতে পারল না। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৫৬ টি আসনে জিতেছে। এগিয়ে রয়েছে আরও ৫২ টি আসনে। ২০১১ সালের পর আবারও ‘পরিবর্তন’-এর সাক্ষী হল বাংলা।
কোন ম্যাজিকে বঙ্গ ভোটে (West Bengal Election Result) জয় হাসিল বিজেপির?
এই নির্বাচনের অন্যতম বড় দিক ছিল নজিরবিহীন ভোটদানের হার। দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রেকর্ড অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে। প্রথম দফায় ভোট পড়ে ৯৩.১৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯২.৬৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে গড় ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৯২.৯৩ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে। এত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং এত ব্যাপক হারে ভোটগ্রহণ দীর্ঘদিন দেখেনি রাজ্যের মানুষ।
আরও পড়ুন: ভোটের ফলাফলের মাঝেই বিরাট খবর! ৫৪ বছর বয়সে তৃতীয়বার বাবা হচ্ছেন কাঞ্চন?
তবে এই বিপুল ভোটদানের হার ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠে এসেছে। একাংশের মতে, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা SIR-এর প্রভাবেই এত মানুষ ভোট দিতে এগিয়ে এসেছেন। অনেকের আশঙ্কা ছিল, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে তালিকায় নাম নাও থাকতে পারে। আবার অন্য একটি মত বলছে, রাজ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভই ভোটারদের বুথমুখী করেছে।
সাধারণত বেশি ভোটদানের হার সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়—এই প্রচলিত ধারণা এবারের নির্বাচনেও অনেকটাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যদিও SIR-এর প্রভাব নিয়ে শুরুতে সংশয় ছিল, কিন্তু ফলাফল স্পষ্ট করেছে যে, রাজ্যের এক বড় অংশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরেই জমে ছিল। সেই ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটের ফলাফলের মাঝেই বিরাট খবর! ৫৪ বছর বয়সে তৃতীয়বার বাবা হচ্ছেন কাঞ্চন?
সবশেষে বলা যায়, এই নির্বাচন (West Bengal Election Result) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এক বড় উদাহরণ হয়ে রইল। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গে বিরল। রক্তপাতহীন পরিবেশে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন এবং সেই কারণেই এত বিপুল অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচন গণতন্ত্রের শক্তিকেই আরও একবার প্রমাণ করেছে।













