‘এভাবে নৃশংস খুন মানুষ মেনে নেবে না’, চন্দ্রনাথ-কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত চাইলেন ফিরহাদ

Published on:

Published on:

Firhad Hakim demands CBI investigation into Chandranath case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথের খুনের ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি তুললেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। একইসঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা করে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।

চন্দ্রনাথকে নিয়ে কী বললেন ফিরহাদ (Firhad Hakim)?

রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণেই তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন বলেও ইঙ্গিত দেন ফিরহাদ। তাঁর দাবি, বিধানসভায় বহুবার চন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবেই তাঁকে চিনতেন তিনি। চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ফিরহাদ বলেন, “ছেলেটার সঙ্গে আমার বিধানসভায় দেখা হতো। অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারা করল পুলিশ প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজন হলে নতুন সরকারের উচিত এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করা। এটা রাজ্যের মানুষ কোনওভাবেই মেনে নেবে না। এভাবে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড মানুষ মেনে নেয় না। তদন্ত করে এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দেওয়া উচিত। আমি ওই পরিবারের পাশে রয়েছি। যথেষ্ট সমব্যথী।”

অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর অভিযোগ, “দুই তিনদিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিজিপি।” কারা এই ঘটনার পিছনে রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপির পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তে নেমে পুলিশও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সুপারি কিলারদের দিয়ে আগেভাগেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Firhad Hakim demands CBI investigation into Chandranath case

আরও পড়ুন : কংগ্রেস দফতরে একী কাণ্ড! মহিলা বিধায়কের আপত্তি সত্ত্বেও ‘অশালীন’ আচরণ প্রবীণ নেতার, ভাইরাল ভিডিও

জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। সেই সময় তিনি মধ্যমগ্রাম থেকে বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামে। তবে কাজের সূত্রে তিনি বারাসতে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর যেমন বাড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। প্রকৃত দোষীরা কবে ধরা পড়বে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।