বঙ্গে পালাবদলের পরেই কড়া দিল্লি! অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের

Published on:

Published on:

India sends a clear message to Bangladesh on the infiltration issue.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন জোর চর্চা চলছে, তেমনই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারত (India)-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরই মধ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ঢাকাকে স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই ভারতের নীতি এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে ভারত।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের (India):

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার গঠনের আগেই সেই অবস্থান যে অপরিবর্তিত রয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন? শুক্রবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে শাহের বৈঠক

এই আবহেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে যদি ‘পুশ ইন’ বা জোর করে লোক পাঠানোর ঘটনা ঘটে, তবে ঢাকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বিএনপি-র সমাজমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই মন্তব্যেরই জবাব দেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে এ ধরনের একাধিক মন্তব্য ভারতের নজরে এসেছে এবং মূল বিষয়টি হল অবৈধ অভিবাসন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতে অবৈধভাবে থাকা বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ করাই ভারতের সরকারি নীতি।

রণধীর জয়সওয়াল আরও জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করবে। বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত ২৮৬০টিরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে, যার মধ্যে বহু মামলাই পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বারবার জটিল হয়ে উঠছে বলে দাবি ভারতের।

India sends a clear message to Bangladesh on the infiltration issue.
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

আরও পড়ুন: কারা মন্ত্রী হচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির প্রথম মন্ত্রীসভায়? বাংলাহান্টের হাতে এল সম্ভাব্য তালিকা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যু আরও বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে। বিজেপি সরকার এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নেবে, তা আগেই স্পষ্ট হয়েছিল। এবার কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে সেই বার্তাই আরও জোরালোভাবে উঠে এল। এখন বাংলাদেশের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং দুই দেশের (India) মধ্যে এই ইস্যুতে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনা কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।