বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, উচ্ছ্বাসের ছবি দেখা গেল হুগলির শেওড়াফুলির (Sheoraphuli) যৌনপল্লিতেও। বিজেপির সরকার গঠনের পর সেখানে যেন উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যৌনকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিনের চাপ ও তোলাবাজির পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আশাতেই তাঁদের এই আনন্দ উদযাপন।
শেওড়াফুলির (Sheoraphuli) যৌনকর্মীদের উদযাপন
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পরের দিন থেকেই এলাকার পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত মিলছে সেখানকার যৌনকর্মীদের। তারপরেই শেওড়াফুলির ওই এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। গেরুয়া আবির উড়িয়ে আনন্দে মাতেন বহু যৌনকর্মী। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করা হয় বিরিয়ানি ও মিষ্টিও।
স্থানীয় যৌনকর্মীদের অভিযোগ, এতদিন তাদের নিয়মিতভাবে চাঁদার নামে তোলাবাজি নেওয়া হত। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হত বলেও দাবি তাঁদের। কেউ প্রতিবাদ করলেই নানা রকম হুমকি ও অত্যাচারের মুখে পড়তে হত। এমনকি জল ও দুধের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের তরফে মাঝেমধ্যে পদক্ষেপ করা হলেও সেই সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটেনি বলেই দাবি তাঁদের।
তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই কারণেই নতুন সরকারের শপথের পর নিজেদের স্বস্তি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন তাঁরা। রবিবার কার্যত উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা পল্লিতে।
এদিন নিজেদের গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে যৌনকর্মীরা বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী বাড়িওয়ালা ও আমাদের কাছ থেকে টাকা নিত। আমাদের মারতে পর্যন্ত এসেছিল। এখন আমাদের মনে হচ্ছে, আর কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। ফল ঘোষণার পর এখন আর তোলা চাইতে আসেনি।”
তোলাবাজিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। চাঁপদানির সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে এসে বলেছিলেন, ভয় আউট, ভরসা ইন। চার তারিখের পর ভয়ে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বলেছি, প্রত্যেক দুর্নীতির তদন্ত হবে। যারা টাকা নিয়েছে, দুর্নীতি করেছে, তাদের ভয় লাগবে। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভরসা থাকবে। এতদিন তৃণমূল শুধু তোলাবাজি করেছে। এসব বন্ধ হয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠের খুনে বিগ ব্রেক, উত্তর প্রদেশে গ্রেফতার তিন আততায়ী
অন্যদিকে, এলাকার কংগ্রেস কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সিংহের বক্তব্য, “টাকা নেওয়া হত, এটা শুনেছি। তবে পল্লির যৌনকর্মীরা চুপ করে ছিলেন। কিছু বলতেন না। এখন তাঁরা মনে করছেন তাঁদের ভালো হবে।” যদিও তাঁর দাবি, গেরুয়া আবির খেলেই যে তাঁরা বিজেপির সমর্থক হয়ে গিয়েছেন, এমনটা বলা ঠিক নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিয়ে এখনও দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে শেওড়াফুলির এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।













