বাংলা হান্ট ডেস্ক : শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) খুনের তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তাদের জেরা করে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) খুনের একাধিক তথ্য
তদন্তে উঠে এসেছে, ঝাড়খণ্ড থেকে একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি বারাসত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য হয়েছিল মোটা অঙ্কের চুক্তি। শুধুমাত্র গাড়ি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার কাজের জন্যই মায়াঙ্ককে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ টাকা। সিবিআইয়ের দাবি, এই পুরো ব্যবস্থার নেপথ্যে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তি, যাঁর খোঁজ এখন এখনও চলছে।
জেরার সময় মায়াঙ্ক জানিয়েছেন, তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গাড়িটি নিরাপদে বারাসতে পৌঁছে দিতে। মধ্যমগ্রামের ঘটনার দিন অভিযুক্তরা ওই গাড়িতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। পথে যাতে গাড়ির পরিচয় ধরা না পড়ে, তার জন্য আগেই সাজানো হয়েছিল নম্বর প্লেট বদলের পরিকল্পনা। সিবিআই সূত্রে খবর, হাওড়ার নিবেদিতা টোল প্লাজার আগে গাড়িটি থামানো হয়। সেখানেই খুলে ফেলা হয় আসল নম্বর প্লেট। পরে লাগানো হয় শিলিগুড়ির আরটিও-তে নথিভুক্ত অন্য একটি গাড়ির নম্বর।
টোল প্লাজা পার হওয়ার আগেই পুরনো নম্বর প্লেট ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জেরায় জানিয়েছে মায়াঙ্ক। তদন্তকারীরা পরে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে গোটা রুট মিলিয়ে দেখেন। বারাসতে পৌঁছনোর পর মায়াঙ্ককে বলা হয়েছিল ১১ নম্বর রেলগেটের কাছে গাড়ি রেখে সেখান থেকে সরে যেতে। নির্দেশ মতো কাজ সেরে তিনি প্রথমে বাসে করে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায় যান। সেখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পর একটি ক্যাব ধরে পৌঁছে যান হাওড়া স্টেশনে। এরপর ট্রেনে চেপে ফিরে যান বক্সারে।
তদন্তকারীদের হাতে যে তথ্য উঠে এসেছে তা থেকে জানা গেছে, টোল প্লাজায় ডিজিটাল পদ্ধতিতেই টোলের টাকা মিটিয়েছিলেন তিনি। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। শুধু নিসান মাইক্রাই নয়, ঝাড়খণ্ড থেকে আরও একটি চারচাকা গাড়ি বাংলায় এসেছিল বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। সেই গাড়িতে থাকা তিনজনের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃত ভিকি ও রাজ সিং কি তাঁদের মধ্যেই ছিলেন, নাকি এই ঘটনায় আরও নতুন কেউ জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন : নিয়োগ হচ্ছে ৬৫০০, কোন দফতরে? বড় ঘোষণা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
ঝাড়খণ্ডের যে ব্যক্তির নির্দেশে গোটা গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল, তাঁকে ঘিরেই এখন তদন্তের ফোকাস। সিবিআই জানতে চাইছে, তিনি কি শুধুই যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন, নাকি খুনের ছকের পিছনে তিনিই মাস্টারমাইন্ড। এই রহস্যের জট কাটাতেই এখন জোরকদমে উঠে পড়েছে তদন্তকারী সংস্থা।













