বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিদেশ ভ্রমণের উপর নতুন কর বা সারচার্জ আরোপ করা হতে পারে বলে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে। এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার বিদেশ সফরের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোর কথা ভাবছে। যদিও এই খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় জোর চর্চা।
বিদেশ ভ্রমণে কর চাপানোর তত্ত্ব খারিজ করলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত করটি সাময়িকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর করা হতে পারে এবং সেই অর্থ সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে জমা পড়বে। তবে বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছিল। এই জল্পনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিদেশে পড়াশোনা, ব্যবসা বা চিকিৎসার জন্য যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: দিনে ডিউটি, রাতে পড়াশোনা! UPSC IFS-এ দেশজোড়া সাফল্য ঝাড়খণ্ডের অংশুমানের
পরিস্থিতি জটিল আকার নেওয়ার আগেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিদেশ ভ্রমণের উপর নতুন কর আরোপের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মোদী লেখেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মধ্যে এক বিন্দুও সত্য নেই। বিদেশ ভ্রমণের উপর এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি আরও বলেন, সরকার নাগরিকদের ব্যবসা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পক্ষেই কাজ করছে, অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর নয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমও নিজেদের প্রতিবেদনে ভুল থাকার কথা স্বীকার করে এবং খবরটি সরিয়ে নেয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সঙ্কটের আবহে এ ধরনের গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন খবর বাজারে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং ভ্রমণ, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: আফ্রিকায় বড় সাফল্য ট্রাম্পের! মার্কিন-নাইজেরিয়া যৌথ অভিযানে খতম আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা
বিদেশ ভ্রমণ এখন শুধু পর্যটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চশিক্ষা, বিনিয়োগ, চিকিৎসা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বিদেশ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই এই ধরনের সম্ভাব্য কর নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে। তবে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই জল্পনার অবসান ঘটেছে। কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা বা তার উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরির কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই।













