১১৪ টি রাফাল কেনার পরিকল্পনা ভারতের! ৯০ টি তৈরি হবে দেশে, মিলল বড় আপডেট

Published on:

Published on:

Big steps are being taken to make Indian Air Force more modern and powerful.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের বায়ুসেনাকে (Indian Air Force) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে বড় পদক্ষেপের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করেছে ভারত। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই নথি ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। যদি সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে ভারতীয় বায়ুসেনার দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিমান ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে এটি হবে অন্যতম বড় পদক্ষেপ। একইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলেও বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ও পাকিস্তানকে মাথায় রেখেই ভারত বায়ুসেনার শক্তি দ্রুত বাড়ানোর পথে হাঁটছে।

ভারতের বায়ুসেনাকে (Indian Air Force) আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে তুলতে বড় পদক্ষেপ:

এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ১১৪টি রাফালের মধ্যে প্রায় ৯০টি যুদ্ধবিমান ভারতেই তৈরি হতে পারে। সূত্রের দাবি, ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা ড্যাসল্ট এভিয়েশন এবং একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা যৌথভাবে এই যুদ্ধবিমান নির্মাণ করবে। বাকি যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থাতেই ফ্রান্স থেকে ভারতে আনা হবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর ফলে শুধু যুদ্ধবিমান উৎপাদনই নয়, উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে ভারতের আত্মনির্ভরতার পথও আরও মজবুত হবে। ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই এই যৌথ উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইদের অনুষ্ঠান থেকে সনাতন ধর্মকে ‘গন্দা ধর্ম’, ‘নোংরা ধর্ম’ বলার অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে দায়ের FIR

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। বিদেশি সরকারের কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে এই নথির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। কী ধরনের অস্ত্র প্রয়োজন, তার ব্যবহার, প্রযুক্তিগত মান, সংখ্যা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য এই নথিতে উল্লেখ থাকে। ভারত ফ্রান্সকে এই চিঠি পাঠানোর পর সেদেশের সরকার ও প্রস্তুতকারক সংস্থা সম্ভাব্য দাম, প্রযুক্তিগত শর্ত, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাবে। এরপর ভারত ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ বা আরএফপি পাঠাবে। তারপর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা এবং দর কষাকষির মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখা তৈরি হবে। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে সিলমোহর দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্র সরকার চলতি বছরের মধ্যেই এই প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করতে চাইছে। ইতিমধ্যেই বায়ুসেনা প্রধানের ফ্রান্স সফরের সম্ভাবনার কথাও জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি আগামী জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও ফ্রান্স সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরেই এই চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের অনুমান। ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার আগের চুক্তিও দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল। এবার আরও বৃহৎ পরিসরে যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) হাতে ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলি লাদাখ সীমান্ত থেকে শুরু করে পশ্চিম সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। অত্যাধুনিক রাডার, দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক যুদ্ধক্ষেত্রে একসঙ্গে অভিযান চালানোর ক্ষমতার কারণে রাফালকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে ধরা হয়। ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই অতিরিক্ত রাফাল কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

Big steps are being taken to make Indian Air Force more modern and powerful.

আরও পড়ুন: ব্রিটেনে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবার! এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা-ছেলে দু’জনেই হলেন মেয়র

শুধু বায়ুসেনাই (Indian Air Force) নয়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীতেও বিশেষ ধরনের রাফাল যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং সামরিক সক্রিয়তার প্রেক্ষিতে ভারত এখন তিন বাহিনীকেই দ্রুত আধুনিকীকরণের পথে নিয়ে যেতে চাইছে। ফলে নতুন রাফাল চুক্তি শুধুমাত্র যুদ্ধবিমান কেনার বিষয় নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি বড় অংশ বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।