প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়ে ফের মানবিকতার বার্তা দিল ভারত (India)। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের ৮ টি জেলায় ১৪ টি নতুন স্কুল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। এই প্রকল্পের জন্য ভারত সরকারের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৬ কোটি ২ লক্ষ নেপালি রুপি। ভারতের এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক সাহায্য হিসেবেই নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং নেপালের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিও আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে এই ঘোষণার মাধ্যমে।
পড়শি দেশ নেপালে ১৪ টি স্কুল তৈরি করবে ভারত (India):
বুধবার কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, নেপালের শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের সঙ্গে ভারত সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলায় আধুনিক পরিকাঠামো-সমৃদ্ধ ১৪টি স্কুল গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার! কুরসিতে বসলেন ডিকে শিবকুমার
যে আটটি জেলায় স্কুলগুলি নির্মাণ করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে গোর্খা, নুয়াকোট, ধাদিং, দোলাখা, কাঠমান্ডু, কাভরেপালানচোক, রামেছাপ এবং সিন্ধুপালচোক। এই অঞ্চলগুলি ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৫ সালের সেই ভূমিকম্পকে নেপালের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে ধরা হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৮। ওই দুর্যোগে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন। বহু স্কুল, হাসপাতাল, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। সেই ক্ষত আজও পুরোপুরি মুছে যায়নি। ফলে ভারতের এই সাহায্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন নেপালের বিশেষজ্ঞ মহল।
ভারতের আর্থিক সহায়তায় তৈরি হতে চলা স্কুলগুলিতে ভূমিকম্প-নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আধুনিক নির্মাণ পদ্ধতিতে গড়ে তোলা এই স্কুল ভবনগুলিতে থাকবে একাধিক শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচালয়। শুধু শিক্ষা নয়, দুর্যোগ মোকাবিলার দিক থেকেও যাতে ভবিষ্যতে এই পরিকাঠামো কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে সূত্রের খবর। নেপাল সরকারের তরফেও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাদের মতে, এই প্রকল্প দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আরও পড়ুন: জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে লাগে গুলি! প্রাক্তন সেনাকর্তা থেকে UPSC-তে সফল নীতীশ কুমার সিং
এটাই প্রথম নয়, অতীতেও নেপালের পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ভারত। ২০২৪ সালে ভারতের আর্থিক সহায়তায় নেপালে ৭০টি স্কুল নির্মাণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তৈরি করা হয় ত্রিভূবন ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল লাইব্রেরিও। ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে নেপালের পাশে থেকেছে ভারত। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুধু দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ভারতের (India) ই উদ্যোগে উপকৃত হবেন নেপালের হাজার হাজার পড়ুয়া এবং তাদের পরিবার।













