বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মস্কোতে আয়োজিত প্রথম ‘আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরাম’ এবং নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের ১৪তম বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, হরমুজ় প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলিকে নিরাপদ রাখা এখন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডোভালের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনও ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক পরিবহণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর। বিশেষত বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গে কী প্রতিক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের (Ajit Doval)?
সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরান-ইজ়রায়েল উত্তেজনা, লোহিত সাগরে একাধিক হামলা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে হরমুজ় প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে ভারত বিশেষভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ভারতের মোট জ্বালানি আমদানির একটি বড় অংশও এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই অঞ্চলে কোনও সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর।
আরও পড়ুন: কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা সিদ্দারামাইয়ার! কুরসিতে বসলেন ডিকে শিবকুমার
মস্কোর বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজিত ডোভাল বলেন, “হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর-সহ আন্তর্জাতিক জলপথগুলির মধ্য দিয়ে বাণিজ্যের নিরাপদ এবং নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু আঞ্চলিক নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও এই বাণিজ্যপথগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমাগত অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তাঁর মতে, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বজায় রাখতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও সম্প্রতি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক পরামর্শ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের খবর, ভারত চাইছে যাতে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত না হয়। সেই কারণেই কূটনৈতিক স্তরে একাধিক দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে লাগে গুলি! প্রাক্তন সেনাকর্তা থেকে UPSC-তে সফল নীতীশ কুমার সিং
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলির গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলির ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত কৌশলগত একটি অঞ্চল। ফলে এই এলাকায় সংঘাত বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে বহু দেশের অর্থনীতিতে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিতে মস্কো থেকে অজিত ডোভালের (Ajit Doval) বার্তা যে শুধুমাত্র কূটনৈতিক সতর্কতা নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।













