অনন্য নজির গড়ল সিকিম! পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্যের কৃতিত্ব অর্জন এই পড়শি রাজ্যের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস গড়ল সিকিম (Sikkim)। দেশের পঞ্চম পূর্ণ সাক্ষর রাজ্যের স্বীকৃতি পেল উত্তর-পূর্ব ভারতের এই ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য। কেন্দ্র সরকারের ‘ULLAS’ বা ‘Understanding of Lifelong Learning for All in Society’ প্রকল্পের আওতায় এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে সিকিম। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের তৃতীয় এবং সমগ্র দেশের পঞ্চম রাজ্য হিসেবে পূর্ণ সাক্ষরতার মর্যাদা পেল সিকিম। এর আগে মিজোরাম, ত্রিপুরা, গোয়া এবং হিমাচল প্রদেশ এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। গ্যাংটকে সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়। রাজ্যের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সাফল্যকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলেই মনে করছে প্রশাসন।

দেশের পঞ্চম পূর্ণ স্বাক্ষর রাজ্যের কৃতিত্ব অর্জন করল সিকিম (Sikkim)

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিকিমের রাজ্যপাল ওম প্রকাশ মাথুর, মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রাজু বাসনেট-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ULLAS’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণে সিকিমের উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা বিশেষভাবে সফল হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরাঞ্চল— সর্বত্র শিক্ষার প্রসারে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন কারণে স্কুলশিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তাঁদের সাক্ষরতার আওতায় আনার জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:নিরাপত্তায় নয় খামতি! হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গে কী প্রতিক্রিয়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের?

সিকিম সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়, বরং এটি রাজ্যের দীর্ঘদিনের সামাজিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। সরকারের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বেই শিক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিকিম দ্রুত অগ্রগতি করেছে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকাতেও শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে ডিজিটাল শিক্ষা, প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা শিবির এবং স্থানীয় স্তরে সচেতনতা কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে মহিলাদের সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার প্রসারে একাধিক বিশেষ প্রকল্প চালু করা হয়। তারই ফলস্বরূপ এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং এই উপলক্ষে বলেন, “২০২৬ সালের ২৭ মে আমাদের রাজ্যের জন্য এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপস্থিতিতে সিকিমকে পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা শুধু গর্বের নয়, এটি আমাদের বহু বছরের পরিশ্রমের স্বীকৃতি।” তিনি আরও বলেন, “এই অর্জন প্রমাণ করে যে, শিক্ষা এবং জ্ঞানের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিকিম কতটা আন্তরিক। আমরা চাই, রাজ্যের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না থাকেন। জ্ঞান, মর্যাদা এবং ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনেও শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।

Sikkim achieves the distinction of becoming the country's 5th fully literate state.

আরও পড়ুন:মাঝগঙ্গায় ঝড়ের তাণ্ডব! নৌকাডুবিতে মৃত ৩, নিখোঁজ আরও ৫

শিক্ষাবিদদের মতে, সিকিমের (Sikkim) এই সাফল্য শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই অনুপ্রেরণার। পাহাড়ি ভৌগোলিক অবস্থান, সীমিত পরিকাঠামো এবং বিচ্ছিন্ন জনবসতির মতো নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সিকিম যেভাবে পূর্ণ সাক্ষরতার লক্ষ্যে পৌঁছেছে, তা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র স্কুলশিক্ষা নয়, প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার উপর সমান জোর দেওয়াতেই এই সাফল্য এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ULLAS’ প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যও সিকিমের এই মডেল অনুসরণ করে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে আরও জোর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।