বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সবচেয়ে বেশি চর্চায় থাকা প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana)। ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের আবেদনপত্র প্রকাশ্যে আসতেই সেই উৎসাহের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে উদ্বেগও। কারণ, ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্মে এত বেশি তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে যে বহু মানুষ এখন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েই দুশ্চিন্তায়। পরিস্থিতি বুঝে এবার ফর্মের জটিলতা কমানোর ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার।
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিলাপে জটিলতা কমানোর আশ্বাস
নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আবেদনকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজন হলে ফর্ম আরও সহজ করা হতে পারে। এই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান। গত বুধবার আবেদনপত্র প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফর্ম সংগ্রহ করতে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে।তবে ফর্ম হাতে পেয়েই সমস্যার মুখে পড়েছেন অনেকে।
আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কিত একাধিক তথ্য সেখানে দিতে বলা হয়েছে। জমির নথি, আধার, প্যান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ-সহ নানা তথ্য একসঙ্গে জমা দেওয়ার নির্দেশে সাধারণ মানুষের একাংশ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বহু মানুষের পক্ষে এত নথি একত্র করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “সবই সরলীকরণ হবে। তবে যাকে ইচ্ছে তাকে এই সুবিধা দিয়ে দেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশিরা এর সুবিধা নিয়ে যেতে না পারে। আগে যেমন জিএসটি নিয়ে জটিলতা থাকলেও এখন তা ভালো হয়েছে, তেমনই এত বড় একটা প্রকল্পের কাজে কিছু তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে হবে, এতে অসুবিধা কোথায়?”
অন্যদিকে উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “বাংলার মা-বোনেদের যদি ফর্ম পূরণ করতে অসুবিধা হয় এবং তাঁরা যদি বদল চান, তবে ফর্মের সরলীকরণ অবশ্যই হবে। কারণ এই প্রকল্প তো আসলে তাঁদের জন্যই।”
তবে আবেদনকারীদের সতর্কও করেছেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, “আপাতত আমরা আয়করের বিষয়টা দেখছি এবং বাকি ডেটাগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রহ করে রাখতে চাইছি। আমি মা-বোনেদের অনুরোধ করব, আপনারা ফর্মে কোনও অসত্য তথ্য দেবেন না। কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। ভুল তথ্য দিলে আপনারা চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন। আমরা চাইছি প্রকৃত গরিব মা–বোনেরা এই টাকা পান, তাই যিনি আবেদন করছেন শুধুমাত্র তাঁর ক্ষেত্রটাই যাচাই করা হবে।”

আরও পড়ুন : লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গ্রাহকদের জন্য বড় আপডেট, কারা পাবেন না নতুন প্রকল্পের টাকা?
এই প্রসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই আবেদনপত্র শুধুমাত্র ভাতা দেওয়ার জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য একটি বিস্তৃত পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হবে। অন্নপূর্ণা যোজনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে। দীর্ঘ আবেদনপত্র ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সরকারের সরলীকরণের আশ্বাসে তা কিছুটা কমেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কতটা সহজ করে এই আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।













