বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) কাজকে আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনিক স্তরে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নিল সরকার। প্রকল্পের সুবিধা যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই এবার ২২ জন সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার আইএএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) দায়িত্বে আইএএস অফিসার
সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র বিতরণ ও নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে প্রকল্পের কাজ কতটা এগোচ্ছে, কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না এবং আবেদনকারীদের কাছে ফর্ম সঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি যে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ার উপরও নজর রাখবেন এই আধিকারিকরা।
জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নাম নথিভুক্তির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করাও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। রাজ্যের মুখ্যসচিব ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন, ২ জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। কারণ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে।
এদিকে, প্রকল্পের ১২ পাতার আবেদনপত্র ঘিরে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেন এত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এত বড় ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন কী, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাউকেই প্রকল্পের বাইরে রাখা হবে না।

আরও পড়ুন : ভারতে রেল ইতিহাসে বড় মাইলফলক, চালু হল প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন পরিষেবা
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা ফর্ম ফিল আপ করতে পারবেন না তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে আমাদের পক্ষ থেকে লোকেরা যাবে। আমাদের লোকেরা গিয়ে ফর্ম ফিল আপ করিয়ে আনবে। এতটুকু বিচলিত বিভ্রান্ত হবেন না। গুজবে কান দেবেন না। আমরা ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার নাম নথিভুক্ত করতে শুরু করেছি। তার প্রথম পর্যায়ে আগামী বুধবার দিন আমরা ৩ হাজার টাকা করে ট্রান্সফার করব।” সরকারের আশা, প্রশাসনের নিবিড় তদারকির ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যাবে সেই সমস্ত পরিবারের কাছে, যাঁদের জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।













