বাংলা হান্ট ডেস্ক : আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সরকারি পরিষেবার পৌঁছনো আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। নদিয়া জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শুরু হল সরকারি প্রকল্প (Government Scheme) ‘জন ভাগিদারি সবসে দূর, সবসে পেহলে’ কর্মসূচি। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকা আদিবাসী পরিবারগুলির কাছে সরাসরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকারি প্রকল্পে (Government Scheme) কী সুবিধা পাওয়া যাবে ?
নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কুলে চাঁদপুর জুনিয়র হাই স্কুলে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নদিয়ার মোট পাঁচটি ব্লকে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আদিবাসী কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে এই কর্মসূচিকে সংযুক্ত করা হয়েছে, যাতে সুবিধাভোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এমন বহু আদিবাসী গ্রাম রয়েছে যেখানে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছয়নি। সেই সমস্ত দুর্গম ও পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করেই এই বিশেষ শিবিরভিত্তিক পরিষেবা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এই বিষয়ে নদিয়া জেলার বিজেপির সাংগঠনিক মুখপাত্র ও কোঅর্ডিনেটর অমিত প্রামাণিক জানিয়েছেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানীয় জল ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের একমাত্র উদ্দেশ্য।”
এই শিবিরগুলিতে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত একাধিক সরকারি পরিষেবা সরাসরি আদিবাসী পরিবারগুলির হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তি যদি শিবিরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা না পান, তাহলে পরবর্তী সময়ে ব্লক, মহকুমা কিংবা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন : একের পর এক ধাক্কা! মঙ্গলে ধর্নার আগে নয়া সমস্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা মানুষদের উপর। আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের সুফল দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও মজবুত করতেই এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে প্রশাসন।













