বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লির (Delhi) রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে আম আদমি পার্টির (Aam Aadmi Party) নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন (Satyendar Jain)। মঙ্গলবার দিল্লি জল বোর্ডের একটি দরপত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। অভিযোগ, প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে। এই মামলায় ঘুষ নেওয়া, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সত্যেন্দ্র জৈনের পাশাপাশি দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন সিইও উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন পরামর্শদাতা অজিত শ্রীবাস্তব-সহ আরও তিন জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
জল বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন (Satyendar Jain):
এই গ্রেফতারির সূত্রপাত অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগের একটি মামলায়। ২০২৪ সালে দিল্লি জল বোর্ডের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে আর্থিক লেনদেন এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, টেন্ডার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও আর্থিক লেনদেনে একাধিক ব্যক্তির ভূমিকা ছিল। সেই তদন্তেরই পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গলবার সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা অবশ্য আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপেই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
আরও পড়ুন: ভারতের সেনাপ্রধান নেপালে পেলেন বিরল সম্মান! ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ফের নিযুক্ত হবেন গোর্খারা?
সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারির পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে দিল্লিতে। আপের শীর্ষ নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সত্যেন্দ্র জৈনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। কেজরিওয়ালের দাবি, অতীতে তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের মামলা করা হয়েছিল, এই ঘটনাতেও একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনও ব্যক্তি মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি হন এবং মানসিক হয়রানির শিকার হন, তার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে?
কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেছেন, বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তাঁর কথায়, সরকার নাকি সমস্ত সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের রাজনৈতিক জবাব দেবে সাধারণ মানুষ এবং ভবিষ্যতে বিজেপিকে ক্ষমতা হারাতে হবে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সত্যেন্দ্র জৈনের গ্রেফতারিকে ঘিরে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দিল্লির রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন: হকি বিশ্বকাপে একী কাণ্ড! ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ সেকেন্ড আগে কপালে স্টিক লেগে রক্তক্ষরণ ঈশিকা চৌধুরীর
এর আগে আর্থিক অনিয়মের অন্য একটি মামলাতেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সত্যেন্দ্র জৈন (Satyendar Jain)। হাওয়ালার মাধ্যমে বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেই তদন্ত হয়েছিল। এবার দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার সংক্রান্ত মামলায় ফের গ্রেফতার হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীরা এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন। অন্যদিকে আপের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই মামলা সামনে আনা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে।













