বারাণসী শহরের বাইরে সরবে মাছ-মাংসের দোকান! বাড়ানো হবে ফলের বাজার, নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বারাণসীতে (Varanasi) নগর পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পুর প্রশাসন। শহরের অভ্যন্তরে থাকা মাছ, মাংস ও মুরগির বাজার ধাপে ধাপে সরিয়ে শহরের বাইরের নির্দিষ্ট এলাকায় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বারাণসী পুরনিগম। মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারির সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে, যানজট কমবে এবং ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বারাণসীর ভাবমূর্তিও আরও সুদৃঢ় হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বারাণসী (Varanasi) শহরের বাইরে মাছ-মাংসের দোকান সরানোর সিদ্ধান্ত

বারাণসী (Varanasi) পুরনিগমের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হিমাংশু নাগপাল জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। কোনও দোকান হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হবে না। প্রথম পর্যায়ে শহরের বাইরে পাঁচটি নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে আধুনিক পরিকাঠামোসহ নতুন মাছ ও মাংসের বাজার গড়ে তোলা হবে। এই স্থানগুলি হল রামনগর, সুজাবাদ, গণেশপুর, অবলেশপুর এবং শিবপুর। একই সঙ্গে শিবপুরে প্রায় ৫০০টি আধুনিক দোকান সম্বলিত একটি বৃহৎ ফলের পাইকারি ও খুচরো বাজার তৈরির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। প্রশাসনের আশা, এতে ব্যবসায়ীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে এবং শহরের বাণিজ্যিক কাঠামো আরও সংগঠিত হবে।

আরও পড়ুন: ভারতের আমের স্বাদে মজে গোটা বিশ্ব! বিরাট রেকর্ড গড়ল এয়ার ইন্ডিয়া

বারাণসীর মতো ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরে দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসব ও শ্রাবণ মাসের সময়ে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় মাছ-মাংসের দোকান নিয়ে নানা বিতর্ক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতো। পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। পুর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ব্যবস্থার ফলে শহরের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল হবে এবং নগর পরিচালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল মিলবে।

শুধু বাজার স্থানান্তরই নয়, নগর উন্নয়নের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পুরসভার রাজস্ব বৃদ্ধি করতে ‘জল কল’ বিভাগের সেটলিং ট্যাঙ্ক থেকে উত্তোলিত প্রায় ৪০ হাজার কিউবিক মিটার মাটি প্রকাশ্যে নিলামের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিড স্কিমের আওতায় থাকা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কাশি ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার প্রকল্প নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা দূর করে প্রশাসন জানিয়েছে যে ভেলুপুরের ঐতিহাসিক জল কল ভবন অক্ষত রাখা হবে এবং প্রকল্পের জন্য পাশের খালি জমি ব্যবহার করা হবে। সেখানে সৌরশক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Decision to relocate meat and fish shops outside the city of Varanasi.

আরও পড়ুন: মহিলা যাত্রীদের কথা ভেবেই বড় পদক্ষেপ, ১৪টি রুটে বাড়ানো হল বাসের সংখ্যা

পরিবেশ সংরক্ষণে নিজেদের দায়বদ্ধতার বার্তাও দিয়েছে বারাণসী (Varanasi) পুর প্রশাসন। ‘নো ফুয়েল ডে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারি, কমিশনার হিমাংশু নাগপাল এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ই-রিকশায় চড়ে টাউন হলে পৌঁছন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। একই বৈঠকে জলাশয় দখলমুক্ত করা, বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ নিশ্চিত করা এবং নতুন ওয়ার্ডগুলিতে পানীয় জলের সংযোগ সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে, প্রাচীন ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে বারাণসীকে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুর প্রশাসন।