বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় আমের সুবাস এবার আরও জোরালোভাবে পৌঁছে গেল বিশ্বের নানা প্রান্তে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস, এই মাত্র তিন মাসে আন্তর্জাতিক রুটে ১ হাজার টনেরও বেশি ভারতীয় আম বিদেশে রপ্তানি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে তারা মোট ৩ হাজার টনেরও বেশি তাজা ফল ও সবজি পরিবহণ করেছে, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ভারতের জনপ্রিয় আম। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে উৎপাদিত আলফানসো এবং কেসর জাতের আম বিদেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার একাধিক দেশে ভারতীয় প্রবাসী ও আমপ্রেমীদের কাছে এই ফল পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক কার্গো নেটওয়ার্ক।
৩ মাসে ৩হাজার টনের বেশি ভারতীয় আম বিদেশে পৌঁছে দিয়ে রেকর্ড করল এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)
এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) দাবি, গ্রীষ্মকাল এলেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয় আমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই চাহিদা পূরণ করতে মুম্বই এবং দিল্লিকে কেন্দ্র করে বিশেষ রপ্তানি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। মুম্বই থেকে প্রতি সপ্তাহে জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্টে প্রায় ৪০ টন আম পাঠানো হয়েছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই এবং আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ টন করে আম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি থেকেও সান ফ্রান্সিসকো, টরন্টো, প্যারিস, হংকং এবং সিডনির মতো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিতভাবে ভারতীয় আম পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাস্তায় নোংরা করলেই গুনতে হবে টাকা! নতুন নিয়মে কী কী থাকছে? জানালেন অগ্নিমিত্রা
ভারতের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষত মহারাষ্ট্র ও গুজরাট, দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়ায় মুম্বই বিমানবন্দর এই রপ্তানি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আমের মরশুমের ব্যস্ত সময়ে মুম্বই থেকে ব্রিটেনের লন্ডন হিথরো বিমানবন্দরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮০ টন পর্যন্ত আম পরিবহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেনে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারতীয় আমের জনপ্রিয়তা এই রপ্তানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। শুধু প্রবাসীরাই নন, স্থানীয় বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও ভারতীয় আমের স্বাদ ও গুণমান নিয়ে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
এই বিপুল পরিমাণ ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমের সতেজতা বজায় রাখা। সেই লক্ষ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক-সহ মোট ১৪টি বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক কোল্ড-চেইন অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। বিমানবন্দরে পণ্য ওঠানো ও নামানোর সময় বিশেষ থার্মাল ব্ল্যাঙ্কেট এবং কুল ডলি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ফলের গুণমান নষ্ট না হয়। এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাতেও আমের স্বাদ, রং এবং সতেজতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিয়ালদহে মেগা ব্লকের কাউন্টডাউন, ট্রেন পরিষেবায় আসছে বড় পরিবর্তন
এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) কার্গো বিভাগের প্রধান রমেশ মামীদালা জানিয়েছেন, মাত্র তিন মাসে ১ হাজার টনেরও বেশি আম পরিবহণ করা সংস্থার কোল্ড-চেইন সক্ষমতার বড় সাফল্য। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে উন্নত পরিবহণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় আমের এই রপ্তানি বৃদ্ধি শুধু দেশের কৃষকদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে দিচ্ছে না, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ড মূল্যও আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, আগামী বছরগুলিতে ভারতীয় আমের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।













