গাড়ি চালকদের জন্য সুখবর! বাড়তে পারে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ, কী পরিকল্পনা কেন্দ্রের?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের কোটি কোটি গাড়িচালকের জন্য বড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) সংক্রান্ত পরিষেবায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতার মেয়াদ বাড়ানো এবং বেশ কিছু পরিষেবা সম্পূর্ণ অনলাইনে নিয়ে আসার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ নাগরিকদের আর সামান্য কাজের জন্য বারবার আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর বা আরটিও অফিসে যেতে হবে না। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবু সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের (Driving License) মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা কেন্দ্রের

বর্তমানে ভারতে একটি সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) সাধারণত ২০ বছরের জন্য বৈধ থাকে অথবা লাইসেন্সধারীর ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত কার্যকর থাকে, এরপর তা নবীকরণ করতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই বৈধতার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, লাইসেন্সধারীদের ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত লাইসেন্স বৈধ রাখা যেতে পারে। এর ফলে বারবার লাইসেন্স নবীকরণের ঝক্কি কমবে এবং নাগরিকদের সময় ও অর্থ দু’টিই সাশ্রয় হবে। সরকারি মহলের মতে, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং তথ্যভাণ্ডারের উন্নতির ফলে দীর্ঘমেয়াদি বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি এখন বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:গুগলের চাকরি সামলে চালিয়েছেন প্রস্তুতি! UPSC-তে বাজিমাত করে নজির গড়লেন IIT-র প্রাক্তনী পীযূষ

শুধু লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি নয়, একাধিক পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর বা ওনারশিপ ট্রান্সফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালু হতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের কাজের জন্য বহু ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকদের আরটিও অফিসে উপস্থিত হতে হয় এবং নানা ধরনের নথিপত্র জমা দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আবেদন, নথি আপলোড এবং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের কাজও অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিজিটাল সংস্কার কার্যকর হলে প্রশাসনিক জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্বও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন সরকারি পরিষেবাকে ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসার উপর জোর দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় পরিবহণ ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই একাধিক পরিষেবা অনলাইনে এসেছে। নতুন প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হলে পরিবহণ সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিও আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Central govt plans to extend driving license validity.

আরও পড়ুন: গুগলের চাকরি সামলে চালিয়েছেন প্রস্তুতি! UPSC-তে বাজিমাত করে নজির গড়লেন IIT-র প্রাক্তনী পীযূষ

সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপগুলির মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরকারি পরিষেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত করে তোলা। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষদের জন্য লাইসেন্স (Driving License) নবীকরণ বা গাড়ির নথি সংক্রান্ত কাজে বারবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে। একই সঙ্গে আরটিও অফিসগুলির উপর কাজের চাপও অনেকটাই হ্রাস পাবে। যদিও প্রস্তাবগুলি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদি এই পরিবর্তনগুলি কার্যকর হয়, তাহলে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।