বাংলাহান্ট ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলতা (Success Story) অর্জন— এই অসাধারণ যাত্রাপথের নায়ক লখনউয়ের পীযূষ কাপুর। এক সময় বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা গুগলের সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো এই তরুণ এবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে নতুন নজির গড়েছেন। ২০২৫ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি ৪০২তম স্থান অধিকার করেছেন। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সফল কেরিয়ার গড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগদানের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার এই কাহিনি ইতিমধ্যেই বহু পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
পীযূষ কাপুরের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story)
পীযূষ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা আইআইটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা গুগলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে অবস্থিত সংস্থার সদর দফতরে কর্মরত অবস্থায় তিনি জিমেল প্ল্যাটফর্মকে স্প্যাম, ফিশিং এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শুধু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবেই নয়, নেতৃত্বের ভূমিকাতেও তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু সেই ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন, যা সাধারণভাবে দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলির মধ্যে অন্যতম বলে বিবেচিত (Success Story)।
আরও পড়ুন: ভারত, পাকিস্তান থেকে চিন… পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য কত খরচ করছে দেশগুলি? সামনে এল রিপোর্ট
সাধারণ ধারণা অনুযায়ী ইউপিএসসি পরীক্ষায় সাফল্য পেতে হলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করতে হয়। তবে পীযূষ সেই ধারণাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, সাফল্যের চাবিকাঠি দীর্ঘ সময় নয়, বরং ধারাবাহিকতা। তিনি জানান, প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়ার পরিবর্তে তিনি নিয়মিত মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, অল্প সময়ের হলেও সেই অধ্যয়ন যদি গভীর এবং পরিকল্পিত হয়, তাহলে তা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। চাকরির চাপের মধ্যেও তিনি নিজের সময়কে সঠিকভাবে ভাগ করে নিয়েছিলেন। মানসিক চাপ কমাতে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে নিয়মিত জিমেও সময় কাটাতেন তিনি।
ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে প্রায় ১৩ ঘণ্টার সময়ের পার্থক্যকে পীযূষ নিজের প্রস্তুতির অন্যতম বড় সুবিধায় পরিণত করেছিলেন। তিনি জানান, যখন ভারতে সকালে সংবাদপত্র, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ প্রকাশিত হতো, তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ধ্যা নেমে আসত। ফলে অফিসে যাওয়ার আগেই তিনি ভারতের সর্বশেষ খবর এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন। এই কৌশলের ফলে চাকরির সময়সূচির সঙ্গে কোনও আপস না করেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাঁর পরিকল্পিত সময় ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত অধ্যবসায়ই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: হরমুজের ওপরে নির্ভরতা কমাতে বড় পরিকল্পনা কেন্দ্রের! ওমান থেকে ভারতে পাইপলাইনে পৌঁছবে গ্যাস
তবে এই সাফল্য (Success Story) একদিনে আসেনি। ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি পঞ্চম প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন। আগের চারবার ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হলেও তিনি কখনও লক্ষ্যচ্যুত হননি। বিদেশের মাটিতে থেকে চাকরি ও পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো, বারবার ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই সময় তাঁর পরিবার সবসময় পাশে থেকেছে এবং মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। অবশেষে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে পীযূষ কাপুর প্রমাণ করে দিলেন যে সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং অটুট মনোবল থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না।













