রেঞ্জ ১৮০ কিমি, ৪৫০ কিমির গতি! শত্রুপক্ষের ঘুম উড়িয়ে ভারতীয় সেনা পেল শক্তিশালী ‘অগ্নিবেগ’

Published on:

Published on:

Indian Army has been further strengthened by getting the 'Agniveg' drone.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হল। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে’ ড্রোন ‘অগ্নিবেগ’ (Agniveg) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থা এসএমপিপি (SMPP) প্রথম পর্যায়ে ১০৬ টি ‘অগ্নিবেগ’ ড্রোন সেনার কাছে সরবরাহ করেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকায় এই নতুন সংযোজনকে ভারতীয় সেনার আক্রমণাত্মক ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘অগ্নিবেগ’ ভারতীয় সেনার স্বল্পপাল্লার কামান এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মধ্যবর্তী সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে এবং নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

১৮০ কিমি রেঞ্জের ‘অগ্নিবেগ’ (Agniveg) ড্রোন হাতে পেয়ে আরও শক্তিশালী হল ভারতীয় সেনা:

সামরিক পরিভাষায় ‘অগ্নিবেগ’ (Agniveg)-এর মতো মাঝারিপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোনকে ‘পিসকিপার’ শ্রেণির অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ড্রোনটির নকশা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে এসএমপিপিকে সহায়তা করেছে বেলারুশের প্রতিরক্ষা সংস্থা কেবি ইন্ডেলা। ভারত ও বেলারুশের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর রাজস্থানের পোখরান ফায়ারিং রেঞ্জে সফল পরীক্ষার পর ভারতীয় সেনা ‘অগ্নিবেগ’কে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন বিশেষ স্কিমের আশ্বাস

প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘অগ্নিবেগ’ অত্যন্ত উন্নত মানের একটি ড্রোন। জেট ইঞ্জিনচালিত এই মানববিহীন আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম ঘণ্টায় প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। উচ্চ বিস্ফোরক বহনক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের কমান্ড সেন্টার, রাডার স্টেশন, গোলাবারুদ ভাণ্ডার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং লজিস্টিক হাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পারবে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ড্রোনটির ‘সার্কুলার এরর প্রোবাবিলিটি’ বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা পাঁচ মিটারেরও কম। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাঠানো ড্রোনগুলির অন্তত অর্ধেক পাঁচ মিটারের মধ্যেই আঘাত হানতে সক্ষম হবে, যা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

প্রথম দফায় সরবরাহ করা ১০৬টি ড্রোনের মধ্যে ১০০টি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ছয়টি প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ড্রোনগুলির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এগুলি শুধুমাত্র আঘাত হানতেই সক্ষম নয়, বরং লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে রিয়্যাল-টাইম তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রের মতো একমুখী আক্রমণাত্মক অস্ত্রের তুলনায় ড্রোনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়, যা সেনা কমান্ডারদের দ্রুত কৌশল পরিবর্তন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। শত্রুর অবস্থান, অস্ত্রভাণ্ডার কিংবা জ্বালানি ডিপোর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে দিতে সক্ষম হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনায় ‘অগ্নিবেগ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Indian Army has been further strengthened by getting the 'Agniveg' drone.

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! পেট্রোল-ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে মানতে হবে নতুন নিয়ম, জারি নির্দেশিকা

এদিকে, ‘অগ্নিবেগ’ (Agniveg)-এর আরও উন্নত সংস্করণ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। বেলারুশের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় তৈরি হতে চলা নতুন সংস্করণটি ঘণ্টায় প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম হবে এবং এর পাল্লাও বর্তমান সংস্করণের তুলনায় আরও বেশি হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনই হবে অন্যতম প্রধান নির্ধারক শক্তি। সেই প্রেক্ষাপটে ‘অগ্নিবেগ’-এর অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সেনাকে শুধু আক্রমণাত্মক শক্তিই দেবে না, বরং গোয়েন্দা নজরদারি, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নির্ভুল হামলার ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা এনে দেবে। ফলে সীমান্তে কিংবা সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতিতে ভারতের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।