হরমুজ সংকটের মাঝেই মোদি-ট্রাম্প বৈঠক! জ্বালানি, যুদ্ধ ও বাণিজ্য নিয়ে হবে আলোচনা?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝেই মুখোমুখি হতে চলেছেন মোদি-ট্রাম্প (Narendra Modi-Donald Trump)। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী গভীর সংকটের মুখে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা একাধিক ইস্যুতে উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লির। এই আবহেই আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্রে এই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

হরমুজ সংকটের আবহেই হবে মোদি-ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) মুখোমুখি বৈঠক!

সংবাদ সংস্থা এপি দুই মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে মোদি ও ট্রাম্পের (Narendra Modi-Donald Trump) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীর সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত দেড় বছরে এই প্রথমবার মুখোমুখি বসবেন দুই রাষ্ট্রনেতা। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে তাঁদের শেষ বৈঠক হয়েছিল। ভারত জি-৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিতভাবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। চলতি বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাবার অসুস্থতাই বদলে দিল জীবন! খেজুর চাষ করে লাখপতি হলেন কর্নাটকের প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। ভারতের ক্ষেত্রেও হরমুজের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই আসে। ফলে হরমুজে অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি। পাল্টা তেহরানের উপর চাপ বজায় রাখতে এলাকায় একাধিক মার্কিন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। এর জেরে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ গত কয়েক দিনে ওমান উপকূলের কাছে ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় একটি জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই হামলাগুলির দায় স্বীকার করেছে আমেরিকা, যা কূটনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Amidst Harmuz crisis Narendra Modi-Donald Trump is going to have a face to face meeting

আরও পড়ুন: নিট ইউজি ২০২৬-এ বড় বদল! বাড়ল পরীক্ষার সময়, রাফ ওয়ার্কের জন্য মিলবে দ্বিগুণ পাতা

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি একদিকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বর্তমান সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের মঞ্চে মোদি-ট্রাম্প (Narendra Modi-Donald Trump) বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে। এই বৈঠক থেকে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা প্রশমনের কোনও পথ বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।