বাংলা হান্ট ডেস্ক : খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরে কর্মীদের বদলিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দপ্তরের একাধিক আধিকারিকের পোস্টিং ও ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই বদলি দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (Food Minister)।
বদলি দুর্নীতি প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী (Food Minister)
এই বিষয়টি জানিয়ে খাদ্যদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং ডিরেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার ডিরেক্টরের কাছে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ নেওয়া হয়েছে। একটি কর্মচারী সংগঠনের প্রভাব বলয়ের মধ্যেই এই কার্যকলাপ চলত বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গোটা চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন মিন্টু বাগচী। এছাড়া হেড কোয়ার্টারের ইউডিসি দেবাশিস রায় এবং হেড কোয়ার্টারে কর্মরত নিলয় চক্রবর্তীও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রতাপ নায়েকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে এই গোষ্ঠী কাজ করত বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বদলির আতঙ্ক দেখিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা তোলা হতো। সেই অর্থ পরবর্তীতে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের তহবিলে ‘অনুদান’ হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী সুজিত চক্রবর্তী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। একই অভিযোগ রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : সবাই নন, শুধুমাত্র এই হকাররাই পেতে পারেন পুনর্বাসন! ইঙ্গিত অগ্নিমিত্রার
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “আমার হাতে অভিযোগটি এখনও আসেনি। তবে এটুকু বলতে পারি, চিঠি পাওয়ামাত্র সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা এই আমলে হবে না। স্বজনপোষণ বা দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স এই সরকারের নীতি। দুর্নীতির সঙ্গে আপসের প্রশ্ন নেই।” এই প্রসঙ্গে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “এতদিন দুর্নীতির নিয়ে কোনো পদক্ষেপ করেনি আগের সরকার। খাদ্যদপ্তরে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তের দাবি জানিয়েছি।”

















