বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডায়মন্ড হারবারে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’ আর্থিক সহায়তা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) চালু করা এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা এবং অর্থের উৎস নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পটি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে, যার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ
মঙ্গলবার বিষ্ণুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন ববি। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার সাতটি বিধানসভায় প্রায় ৭৬ হাজার বয়স্ক মানুষকে মাসে এক হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিভিন্ন প্রচারে এই সহায়তা কার্যকর হওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।
বিজেপি নেতার বক্তব্য, ওই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে কয়েক হাজার ব্যক্তির অনুদানের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রবীণদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি তথ্যভান্ডারের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছেন অভিজিৎ দাস। তাঁর বক্তব্য, “এই কোটি কোটি টাকার উৎস কী? দুয়ারে সরকারের সরকারি নথি তাঁকে কে বা কারা দিয়েছিলেন? সত্যিই কি ৭৬ হাজার প্রবীণ এই টাকা প্রতি মাসে পেতেন? যাঁরা ডোনেশন দিয়েছিলেন তাঁরা কারা?” তাঁর অভিযোগ, এত বিপুল অঙ্কের অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হল এবং সেই অর্থের আর্থিক উৎস কতটা বৈধ, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সেই কারণেই তিনি থানার কাছে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ৫ থেকে ১৮ বছরের প্রতিভাবান শিশুদের জন্য বড় সুযোগ, শুরু হল প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কারের আবেদন
প্রসঙ্গত, এই কোটি কোটি টাকা কালো টাকা ছিল কিনা তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর মতে, শুধুমাত্র পুলিশ নয়, আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাগুলিরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগের অনুলিপি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, ইডি এবং আয়কর দপ্তরের কাছেও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’ প্রকল্প নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং প্রশাসন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।













