বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে অপেক্ষা চলছে। কিন্তু এই কমিশনের সুপারিশ জমা দিতে দেরি হলে কর্মীদেরই আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। হিসেব বলছে, লেভেল ৭-এর কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ ৩.৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মূলত বেতন, DA, HRA এবং TPTA-র হিসেবেই এই পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
8th Pay Commission : কেন দেরি হলে ক্ষতি হবে?
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ মাস কেটে গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে কমিশনকে তাদের সুপারিশ জমা দিতে হবে। সুপারিশ জমা দেওয়ার পর মন্ত্রিগোষ্ঠী তা খতিয়ে দেখবে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। তাই কমিশনের কাজ এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যত দেরি হবে, কর্মীদের বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
কারণ নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সংশোধিত বেসিক পে-র ভিত্তিতে এরিয়ার হিসেব করা হয়। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগের সময়ের DA, HRA এবং TPTA-র মতো ভাতার বকেয়া সবটা পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
DA-এর ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেব
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সাধারণত বছরে দু’বার DA বাড়ে। মূল্যবৃদ্ধির হিসেব অনুযায়ী জানুয়ারি এবং জুন মাসে DA সংশোধন করা হয়। আবার কর্মীর বেসিক পে বাড়লে DA-এর অঙ্কও বাড়ে। তাই অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) আগে কার্যকর হলে কর্মীরা বেশি সময় ধরে বাড়ানো বেতন এবং DA-এর সুবিধা পেতে পারেন। কমিশন কার্যকর হতে দেরি হলে সেই বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সময়ও কমে যেতে পারে।
লেভেল ৭-এর কর্মীদের হিসেব কী বলছে?
এই হিসেবের ক্ষেত্রে সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী লেভেল ৭-এর কর্মীর বেসিক পে ৪৪,৯০০ টাকা ধরা হয়েছে। ‘X’ ক্যাটাগরির শহরে HRA ধরা হয়েছে বেসিকের ২৪ শতাংশ। TPTA-এর ক্ষেত্রে সপ্তম বেতন কমিশনের নির্ধারিত হার এবং DA ধরা হয়েছে।
এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে, ২০২৭ সালের মে মাসে DA ৬৫ শতাংশ, অগাস্টে ৬৭ শতাংশ এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ৭০ শতাংশ হতে পারে। পাশাপাশি অষ্টম বেতন কমিশনের সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.১ ধরা হয়েছে। HRA ও TPTA-র ক্ষেত্রেও বর্তমান হারের ২.১ গুণ ধরে হিসেব করা হয়েছে।
হিসেব অনুযায়ী—
বেসিক পে: ৪৪,৯০০ টাকা থেকে সম্ভাব্য ৯৪,২৯০ টাকা। পার্থক্য ৪৯,৩৯০ টাকা।
HRA: বর্তমানে ১০,৭৭৬ টাকা। সম্ভাব্য ২২,৬৩০ টাকা। পার্থক্য ১১,৮৫৪ টাকা।
TPTA: বর্তমানে ৩,৬০০ টাকা। সম্ভাব্য ৭,৫৬০ টাকা। পার্থক্য ৩,৯৬০ টাকা।
৬৫ শতাংশ DA-সহ TPTA: বর্তমানে ৫,৯৪০ টাকা, সম্ভাব্য ৭,৫৬০ টাকা।
৬৫ শতাংশ DA অনুযায়ী HRA + TPTA: বর্তমানে ১৬,৭১৬ টাকা, সম্ভাব্য ৩০,১৯০ টাকা। পার্থক্য ১৩,৪৭৪ টাকা।
৬৭ শতাংশ DA-সহ TPTA: বর্তমানে ৬,০১২ টাকা, সম্ভাব্য ৭,৫৬০ টাকা।
৬৭ শতাংশ DA অনুযায়ী HRA + TPTA: বর্তমানে ১৬,৭৮৮ টাকা, সম্ভাব্য ৩০,১৯০ টাকা। পার্থক্য ১৩,৪০২ টাকা।
৭০ শতাংশ DA-সহ TPTA: বর্তমানে ৬,১২০ টাকা, সম্ভাব্য ৭,৫৬০ টাকা।
৭০ শতাংশ DA অনুযায়ী HRA + TPTA: বর্তমানে ১৬,৮৯৬ টাকা, সম্ভাব্য ৩০,১৯০ টাকা। পার্থক্য ১৩,২৯৪ টাকা।
কত মাসের এরিয়ার মিস হতে পারে?
হিসেব অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) সুপারিশ ২০২৭ সালের মে মাসে জমা পড়লে ১৭ মাসের এরিয়ার মিস হতে পারে। সুপারিশ অগাস্টে হলে ২০ মাসের এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে হলে ২৫ মাসের এরিয়ার মিস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর পর এবার নজরুল উৎসব, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ
এই হিসেবের ভিত্তিতেই লেভেল ৭-এর কর্মীদের ক্ষেত্রে অষ্টম বেতন কমিশনে দেরি হলে সর্বোচ্চ ৩.৩২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে ধরা হয়েছে (8th Pay Commission)।













