বাংলা হান্ট ডেস্ক : কালীগঞ্জের তমন্না খুন মামলায় (Tamanna Murder Case) তদন্তে নতুন মোড়। এই মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাচক্রে, তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত বিচারের আবেদন জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই গ্রেফতারির ঘটনা ঘটল।
তমন্না খুন মামলায় (Tamanna Murder Case) গ্রেফতার আরও ২
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের একটি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে পৌঁছে আত্মগোপন করে থাকা দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাঁদের নদিয়ায় নিয়ে আসা হয়।তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতের আবেদনও করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। আদালতে তোলার আগে নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হবে।
গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর কথায়, “আমি দীর্ঘদিন ধরেই বলছিলাম, অপরাধীরা লুকিয়ে নেই—পুলিশ ওদের লুকিয়ে রেখেছে। এর নেপথ্যে তৃণমূল নেতাদের পূর্ণ সমর্থন ছিল। প্রশাসনই অপরাধীদের আড়াল করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত হয়েছিলাম, তবে এত দ্রুত পুলিশ পদক্ষেপ করবে, তা ভাবতে পারিনি। আশা করছি বাকিরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে। প্রশাসনিক প্রধানের এ রকম তৎপরতা দীর্ঘ দিন রাজ্যের মানুষ দেখেনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সত্যি সত্যিই প্রশংসা করার মতো। আশা করছি তমন্না বিচার পাবে।”
উল্লেখ্য, বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তমন্না হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। পরে বিধানসভাতেই তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।
বৈঠক শেষে তাঁরা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস মিলেছে। তার অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার এফআইআরে নাম থাকা আরও দুই অভিযুক্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজয় উল্লাসকে কেন্দ্র করে তমন্নার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতেই প্রাণ হারায় ওই কিশোরী। সেই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ।

আরও পড়ুন : অস্ত্র নয়, সম্প্রীতির বার্তা! মহরম ঘিরে একগুচ্ছ নির্দেশ জারি লালবাজারের
চলতি বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি একই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন। অন্যদিকে, এ বার সিপিএম তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করে। ফলে মঙ্গলবারের বিধানসভা অধিবেশনে এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আলিফাকে। এই মামলায় আরও দুই গ্রেফতারির ফলে মামলায় ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। মামলার তদন্ত এখনও চলছে। যদিও একের পর এক গ্রেফতারির ফলে নিহত তমন্নার পরিবারের মধ্যে ন্যায়বিচারের আশা আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং মামলার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে।













