বাংলা হান্ট ডেস্ক : তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের (Taratala) ঘটনায় শোকস্তব্ধ কলকাতা। বুধবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এছাড়া অন্তত ২০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃত ও আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।
তারাতলা দুর্ঘটনায় (Taratala) বিরোধীদের তোপ মুখ্যমন্ত্রীর
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতি ও বেআইনি কাজের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের নিশানা করেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ঘটনার পিছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং প্রভাবশালীদের মদত রয়েছে। তদন্তে কারও প্রতি কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা আপনাদের পাপের ফল। সব জায়গা থেকে টাকা নিতে নিতে এই সিটি অফ জয়কে মৃত্যুকুপে পরিণত করেছেন৷ প্রাক্তন মেয়রের সই আছে এতে। কাউকে ছাড়া হবে না। ইঞ্জিনিয়ার যাদের নাম আছে তাদের ছাড়া হবে না। গার্ডেনরীচে বিল্ডিং ভেঙে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদের অনেকজন মারা যায়। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটার৷ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। আসগরকে খুঁজছি। চাইব যাতে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারি৷ ক্যামাক স্ট্রিটে ২০০ কোটি জমা দিয়েছে। সব জানি।”
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে, সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ তাঁদের পাশে থাকার।’ অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র সরকারও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, তারাতলার এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণে কোনও গাফিলতি বা বেআইনি কাজের যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজও চলছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।













