বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে,
দেশে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সরকার (Cabinet Decision) একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট ১৩,০৪১ কোটি টাকার ৫ টি বড় প্রকল্পের অনুমোদন করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে ৪ টি রেল প্রকল্প ও একটি হাইওয়ে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার সময়ে বলেন যে, ৩ টি রেল প্রকল্প হাওড়া-চেন্নাই (Howrah-Chennai) হাই ডেনসিটি নেটওয়ার্কের অংশ। এই প্রকল্পগুলি সম্পন্ন হলে হাওড়া থেকে চেন্নাই পর্যন্ত একটি চার-লাইনের নিরবিচ্ছিন্ন করিডোর তৈরি হবে। এর ফলে আরও বেশি ট্রেন চালানো সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
মোদী ক্যাবিনেটের বড় সিদ্ধান্ত (Cabinet decision)!
হাওড়া-চেন্নাই রেলপথে লাইন সম্প্রসারণ করা হবে: জানিয়ে রাখি যে, হাওড়া-চেন্নাই রেলপথটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোর হিসাবে বিবেচিত হয়। এই পথে পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে প্রচুর যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। মন্ত্রিসভা এই পথে ৩ টি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খড়গপুর-ভদ্রকের মধ্যে চতুর্থ লাইন, ভদ্রক-হরিদাসপুরের মধ্যে চতুর্থ লাইন এবং গুম্মিডিপুন্ডি-গুডুরের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের নির্মাণকাজ।

প্রতিটি রুটে কত টাকা খরচ হবে:
খড়গপুর-ভদ্রক (চতুর্থ লাইন): এই ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে খরচ হবে ৩,৩৫২ কোটি টাকা। এটি পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাকে সংযুক্ত করবে এবং সুবর্ণরেখা নদীর ওপর একটি বড় সেতুও নির্মাণ হবে।
ভদ্রক-হরিদাসপুর (চতুর্থ লাইন): ওড়িশার এই ৭৫ কিমি দীর্ঘ অংশটি নির্মাণে খরচ হবে ১,৫৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈতরণী ও ব্রাহ্মণী নদীর ওপর ২ টি বড় সেতু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুম্মিডিপুন্ডি-গুডুর (তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন): এই ৯০-কিমি দীর্ঘ করিডোরটি নির্মাণে খরচ হবে ২,২২৯ কোটি টাকা। এটি তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যে রেল যানজট কমাতে সাহায্য করবে।
কটক-পারাদ্বীপ (তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন): এই ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের জন্য ২,২৮৬ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এটি পারাদীপ বন্দরে পণ্য পরিবহণে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: SBI-র গ্রাহকরা হন সতর্ক! ৪ বারের বেশি টাকা তুললেই লাগবে অতিরিক্ত চার্জ, কবে থেকে লাগু নতুন নিয়ম?
বিহারে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত একটি চার-লেনের হাইওয়ে নির্মাণ করা হবে: উল্লেখ্য যে মন্ত্রিসভা বিহারের মুজাফফরপুর থেকে সীতামঢ়ী হয়ে সোনবরসা (নেপাল সীমান্ত) পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চার-লেনের হাইওয়ে নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এর আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩,৫৯১ কোটি টাকা এবং এটি হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল (HAM)-এর অধীনে তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি ৩০ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৭ টি বড় সেতু, ৩ টি রোড ওভারব্রিজ, যানবাহন চলাচলের ৬ টি আন্ডারপাস এবং বাগমতী নদীর ওপর একটি ৩৪০ মিটার দীর্ঘ বড় সেতু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি সম্পন্ন হলে, মুজাফফরপুর থেকে নেপাল সীমান্ত পর্যন্ত সফরের সময় ২ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ১ ঘণ্টা হবে। এটি মাতা জানকী মন্দির (পুনৌরা ধাম) এবং বাবা গরীবনাথ মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্যও সুবিধাজনক হবে।
আরও পড়ুন: ছাত্রজীবনের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে নতুন সূচনা! মহাসমারোহে সম্পন্ন হল SKF-এর Graduation Day
এই প্রকল্পগুলির সুফল: কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, এই পাঁচটি প্রকল্প যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। উন্নত রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্দর, শিল্পাঞ্চল, খনি এলাকা এবং প্রধান শহরগুলির মধ্যে পণ্য পরিবহণ সহজতর করবে। এই রেল প্রকল্পগুলি সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা তৈরি করবে। যা লজিস্টিক খরচ কমাতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং সড়কপথের তুলনায় রেলপথে পণ্য চলাচল বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বৃদ্ধি কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।













