বাংলাহান্ট ডেস্ক: সামনেই নির্বাচন আর তার আগে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (Pakistan-Occupied Kashmir)। সম্প্রতি পাক সেনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তারপরই সেই ঘটনাকে ঘিরে যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনও নেভেনি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি। এবার বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ তুলেছেন, যে আন্দোলন দমন করতে শুধু নিরাপত্তা অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না প্রশাসন, বরং সাধারণ মানুষের উপরও চাপ বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় ওষুধ সরবরাহতেও বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যার জেরে বহু পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে এবং গোটা অঞ্চলে রীতিমতো উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
PoK (Pakistan-Occupied Kashmir)-তে পাক সেনার বিরুদ্ধে খাদ্য-ওযুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্র এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধের জেরে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু এলাকায় বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা, যার জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে অনেক বাসিন্দাকেই পাকিস্তানের অন্য শহরে যেতে হচ্ছে। তবে সেখানেও পর্যাপ্ত সরবরাহ মিলছে না বলে অভিযোগ। আটা, চাল, ডাল, চিনি, রান্নার তেল, এমনকি পেট্রোলের মতো জরুরি সামগ্রীও অনেক এলাকাতেই এই পরিস্থিতিতে অপ্রতুল। মুজাফ্ফরাবাদের বাসিন্দা মহম্মদ মাসকিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি বহু জায়গায় ওষুধের খোঁজ করেও পাননি। তিনি জানান, একাধিক বড় বড় ওষুধের দোকানও বন্ধ রয়েছে, যার ফলে অসুস্থ মানুষ এবং প্রবীণদের দুর্ভোগ আরও বেড়েই চলেছে (Pakistan-Occupied Kashmir)।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট তৈরি ও রিনিউর খরচ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! কবে থেকে লাগু নতুন ফি?
আগামী ২৭ জুলাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন হওয়ার কথা। আর সেই নির্বাচনকে ঘিরেই ক্রমশ আরও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই নির্বাচনের ফল সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে, আর সেই আশঙ্কা থেকেই প্রশাসন এরকম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকেও সেখানে সক্রিয় করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নাগরিক সমাজের সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হাতাহাতির খবর সামনে আসে।
পাক সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ঘটনায় এক চিকিৎসক, এক মহিলা-সহ বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায় এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক এখনও কমেনি।

আরও পড়ুন: লাগবে অল্প টাকা, প্রকৃতির মাঝে শান্তি পেতে ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের এই গ্রাম থেকে
অধিকৃত কাশ্মীরের (Pakistan-Occupied Kashmir) এই পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তাহলে তার প্রভাব শুধুমাত্র অধিকৃত কাশ্মীরেই নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে এখন ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচন এবং তার আগে প্রশাসন কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ও মানবিক পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকেই সকলের নজর।













