৩,০০০ টাকায় করতেন সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি! আজ সামলাচ্ছেন কোটি টাকার ব্যবসা, চমকে দেবে অজয়ের কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Ajay Kumar Sharma will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ওড়িশার বরগড় জেলার এক সাধারণ পরিবারের ছেলে অজয় কুমার শর্মার সাফল্যের কাহিনি (Success Story) আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা। একসময় পেট চালাতে মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন তিনি। সংসারে ছিল চরম আর্থিক অনটন, এমন পরিস্থিতিও এসেছে যখন পরিবারের জন্য ধারেও রেশন পাওয়া যেত না। অথচ সেই যুবকই আজ গুরুগ্রাম-ভিত্তিক বিলাসবহুল স্যানিটেশন স্টার্টআপ ‘ম্যাগনেটকানেক্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ‘এমফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রে আধুনিক ‘রিফ্রেশিং স্টেশন’ তৈরি করে জনস্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এরই সাথে ২০২৬ সালের মধ্যে সংস্থার রাজস্ব ১৬ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন অজয়।

অজয় কুমার শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

অজয়ের শৈশব কাটে দারুণ অভাব অনটনে। একসময় তাঁদের পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও সম্পত্তি ভাগাভাগির পর পারিবারিক অশান্তিতে সবকিছু বদলে যায়। কলেজে পড়াকালীন পরিবারের আর্থিক সংকট এতটাই গভীর হয় যে কাউকে কিছু না জানিয়ে পেটের তাগিদে তিনি বেঙ্গালুরু চলে যান। সেখানে প্রথমে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরে একটি আইটি সংস্থায় মাসে ৩ হাজার টাকা বেতনে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি পান। ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ শিফট শেষ হওয়ার পরেও তিনি বাড়ি ফিরতেন না। বাড়ি না ফিরে তার পরিবর্তে ওই সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ মন দিয়ে দেখতেন এবং নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতেন। তাঁর এই নিজের ভবিষ্যৎ বদলানোর ইচ্ছাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দিনের বেলায় কম্পিউটার ক্লাস করার জন্য তিনি রাতের শিফট বেছে নেন। টানা সাড়ে চার মাস শুধুমাত্র দিনেরবেলায় মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েই নিজের পড়াশোনা ও কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যান (Success Story)।

আরও পড়ুন: নেই খাবার! বন্ধ ওষুধ সরবরাহ, PoK-তে বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেল পাক সেনা

তাঁর এই অদম্য পরিশ্রমের ফলও তিনি পান। একদিন তিনি একটি মার্কিন আইটি সংস্থায় উচ্চপদে কাজের সুযোগ পান। তাঁর নাগালে বিলাসবহুল জীবন, বিএমডব্লিউ গাড়ি—এই সবকিছুরই প্রলোভন তাঁর চোখের সামনে রীতিমতো জ্বলজ্বল করছিল । কিন্তু সেসব কিছু অতিক্রম করে অজয় উপলব্ধি করেছিলেন যে, দেশে এখনও উন্নত মানের পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে নারী ও ভ্রমণকারীদের জন্য। সেই ভাবনা থেকেই ভারতে ফিরে এসে ‘এমফ্রেশ’ নামে এমন এক প্রিমিয়াম রিফ্রেশিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করেন, যা সাধারণ শৌচাগারের ধারণাকেই বদলে দিতে বাধ্য। প্রথমদিকে তাঁর এই ভাবনাকে অনেকেই সেরকমভাবে গুরুত্ব দেননি। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিলেন, “শৌচাগারে আবার এসির কী দরকার?” তবে দীর্ঘ আট মাস ধরে বিভিন্ন শহরে নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর অবশেষে একজন তাঁর পরিকল্পনায় আস্থা রেখে তা বাস্তবায়িত করতে সায় দেন।

কোনও বহিরাগত বিনিয়োগ ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের সঞ্চয় এবং বন্ধু-পরিজনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সাহায্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিত মাসে অজয় এই উদ্যোগের প্রথম ইউনিট চালু করেন। শুরুর দিকে প্রতি মাসে পরিচালনার জন্য ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা খরচ হলেও বছরের শেষে ব্যবসা স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বর্তমানে তাঁর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রিফ্রেশিং এই স্টেশনগুলিতে আধুনিক টয়লেট, ইউরিনাল, শাওয়ার, মোবাইল চার্জিং স্টেশন, লকার, এছাড়াও শিশুদের ডায়াপার বদলের ব্যবস্থা এবং স্যানিটারি প্যাড ডিসপেনসারের মতো পরিষেবা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই  টয়লেটগুলিতে প্রতিটি ব্যবহারকারীর পরপরই পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করা হয়। অথচ এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও খরচ রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যেই। ইউরিনাল ব্যবহারে ১০ থেকে ৩০ টাকা, টয়লেট ব্যবহারে ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং সাবান, শ্যাম্পু ও তোয়ালেসহ শাওয়ারের জন্য মাত্র ১০০ টাকা নেওয়া হয়।

Success Story of Ajay Kumar Sharma will amaze you.

আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় লাগামছাড়া AI ব্যবহার নয়! আগেভাগে সতর্ক হয়ে বড় পরিকল্পনা RBI-র

বর্তমানে পুরীতে চারটি এবং ভুবনেশ্বরে দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি বর্তমানে খাটু শ্যাম, বৃন্দাবন ও হরিদ্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্রেও নতুন ইউনিট তৈরির কাজ চলছে। সংস্থার আয়ের মূল উৎসই হল ‘পে-অ্যান্ড-ইউজ’ পরিষেবা, সরকারি ও ভিআইপি অনুষ্ঠানের জন্য বিলাসবহুল ইউনিট ভাড়া এবং বিজ্ঞাপন। তবে অজয়ের লক্ষ্য কিন্তু শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, সমাজের জন্যও কাজ করা। তাঁর ‘এভিটেবল ইন্ডিয়া কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে নিজের গ্রামে প্রায় ৩ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে প্রতিবন্ধীবান্ধব একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের স্যানিটেশন কেন্দ্রও গড়ে তুলেছেন। অজয়ের বিশ্বাস, সাধারণ মানুষ আজ যেমন একটি জলের বোতলের মূল্য বোঝে, তেমনই একদিন পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মর্যাদাপূর্ণ জনসুবিধার গুরুত্বও ঠিক সমানভাবেই উপলব্ধি করতে পারবেন। তাঁর জীবনের লড়াই প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম, শেখার আগ্রহ এবং সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে সাফল্য (Success Story) একদিন ধরা দিতেই বাধ্য।