অনুপ্রবেশের পর মাদকের বিরুদ্ধে ‘থ্রি-ডি’ নীতি! ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কড়া বার্তা অমিত শাহের

Published on:

Published on:

Amit Shah gave a strong message with the aim of building a 'drug-free India'.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: এর আগে বহুবার দেশকে অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করার লক্ষ্যে ‘থ্রি-ডি’ অর্থাৎ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতির কথা শোনা গিয়েছেকেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) মুখে। যেমন বলা তেমন কাজ একাধিকবার করেও দেখিয়েছেন তিনি। সেই নীতির ভিত্তিতেই সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এবার সেই একই ধাঁচে দেশের সামনে আরও একটি বড় লক্ষ্য স্থির করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশের মতো দেশের (India) যুবশক্তির মধ্যে মাদকাসক্তির পরিমাণও যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কেন্দ্রের কাছে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল দেশকে মাদকমুক্ত করা। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যে কোনও মূল্যে ভারতকে মাদকমুক্ত করতেই হবে। তাঁর জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যেই সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এই লড়াইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই হবে সরকারের মূল অস্ত্র।

‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কড়া বার্তা অমিত শাহের (Amit Shah):

রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত নার্কো কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (এনসিওআরডি) দশম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অমিত শাহ (Amit Shah) আগের মতোই একটি ‘থ্রি-ডি’ ফর্মুলা সামনে আনেন। তবে এই ফর্মুলা আগের থেকে একটু আলাদা। এই নীতির তিনটি ধাপ হল- ডিটেক্ট, ডিসরাপ্ট এবং ডেস্ট্রয়। অর্থাৎ প্রথমে মাদকচক্রকে চিহ্নিত করা অথবা ডিটেক্ট করা, তারপর তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া অর্থাৎ ডিসরাপ্ট এবং সবশেষে সম্পূর্ণভাবে সেই চক্রকে ধ্বংস করা কিংবা ডেস্ট্রয় করা। এদিন অমিত শাহ আরও বলেন, মাদক চক্রগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু কেন্দ্র নয়, রাজ্যগুলিকেও সমানভাবেই দায়িত্ব নিতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যাগ ছাড়া এই সমস্যার মোকাবিলা করা একেবারেই অসম্ভব বলেই তিনি মনে করেন। তাই প্রতিটি রাজ্যকেও এই একই কৌশলে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:এক ধাক্কায় বাড়ল সোনার দাম! জানুন আজকের লেটেস্ট গোল্ড রেট…

এদিন বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ মোদী সরকারের মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানের সাফল্যের দিকগুলিও তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ গত ১২ বছরে সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি টাকার মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তুলনায়, ইউপিএ-১ এবং ইউপিএ-২ সরকারের মোট ১০ বছরের শাসনকালে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, বর্তমান সরকার মাদক পাচার রুখতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় এবং যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এই অভিযান আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

শুক্রবার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের ৪৪টি মন্ত্রকের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের সামনেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন যে, মাদক বিক্রেতা বা পাচারকারীদের কোনওভাবে কোনও পরিস্থিতিতেই রেয়াত করা যাবে না। এরকম কোনও চক্রের হদিশ পেলেই আইন অনুযায়ী দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উপরই তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যগুলিকে নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র তৈরি ডিজিটাল পোর্টাল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের আহ্বান জানান। এই পদ্ধতি চালু হলে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং মাদক সংক্রান্ত তদন্ত ও নজরদারি অনেক বেশি কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তিনি।

Amit Shah gave a strong message with the aim of building a 'drug-free India'.

আরও পড়ুন: ‘এমন অনেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার..,’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নয়া আপডেট দিলেন অর্থমন্ত্রী

এদিনের বৈঠকে অমিত শাহের (Amit Shah) বক্তব্যে স্পষ্ট যে, কেন্দ্র এখন মাদকবিরোধী লড়াইকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখছে। তাঁর মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি গোটা পরিবার, পুরো সমাজ এবং আগামী প্রজন্মকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তাই এই সমস্যার মোকাবিলায় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। ‘ডিটেক্ট, ডিসরাপ্ট এবং ডেস্ট্রয়’— এই নতুন থ্রি-ডি নীতিকে সামনে রেখে কেন্দ্রের লক্ষ্য, মাদক চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলে একটি নিরাপদ, সুস্থ এবং মাদকমুক্ত ভারত গড়ে তোলা।