বারংবার ব্যর্থ হয়েছেন NEET-এ! কেরিয়ার বদলে নামী সংস্থার ডেটা সায়েন্টিস্ট হয়ে নজির গড়লেন সঞ্জয়

Published on:

Published on:

Success Story of Sanjay B will inspire you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে জীবীকা নির্বাহের জন্য যেসব পরীক্ষাগুলি দেওয়া তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হল নিট এবং জেইই। আজকের এই প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থায় নিট বা জেইই-এর মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাকে অনেকেই জীবনে সাফল্যের (Success Story) সবচেয়ে বড় মাপকাঠি বলে মনে করে থাকেন। মনে করেন এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই জীবনের সবটা নির্ভর করে থাকে। তাই কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে ভেঙে পড়েন অসংখ্য পড়ুয়া, কখনও কখনও হতাশা এতটাই গভীর হয় যে ভবিষ্যৎ নিয়েই আশা হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তব বলছে, একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনও একজন মানুষের যোগ্যতা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। সেই সত্যেরই একেবারে জলজ্যান্ত উদাহরণ হল সঞ্জয় বি। তিনবার নিট পরীক্ষায় ব্যর্থতা, জেইই মেন বা জেইই অ্যাডভান্সডে উল্লেখযোগ্য কোনও র‍্যাঙ্ক না পাওয়া, সব বাধা পেরিয়ে আজ তিনি পুণের একটি নামী সংস্থায় সফল ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি নিজের জীবনের এই দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি তিনি লিঙ্কডইনে ভাগ করে নেন। মুহূর্তেই সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কাছে তা হয়ে ওঠে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা।

সঞ্জয়ের বি-এর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

সঞ্জয়ের লড়াই শুরু হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিকের পর। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে পড়াশোনার মধ্যে ডুবিয়ে দেন। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২০ মাস তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন এবং প্রায় সব ধরনের ব্যক্তিগত বিনোদন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিট পরীক্ষায় ভালো ফল করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া। নিজের পোস্টে তিনি লিখেছেন, উৎসব এসেছে, ঋতু বদলেছে, কিন্তু তাঁর জীবনে কোনও পরিবর্তন আসেনি। প্রতিদিন একই রুটিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা, মানসিক চাপ, একাকীত্ব আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অজানা আশঙ্কার মধ্যেই কেটেছে সেই সময়। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নই তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল (Success Story)।

আরও পড়ুন: অরুণাচলের জমি অবৈধভাবে দখল করছে চিন? তদন্ত শুরু করছে সরকার, কী জানাল ভারতীয় সেনা?

কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের পরও সাফল্য ধরা দেয়নি। ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিট পরীক্ষায় বসেও তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। সেই সময়টা তাঁর কাছে ছিল সবচেয়ে কঠিন। বাবা-মায়ের অনেক আশা ছিল, তাই নিজের হতাশা বা মানসিক কষ্ট তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সাহসও পাননি। এদিকে তাঁর বন্ধুরা একে একে বিভিন্ন নামী কলেজে ভর্তি হয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। আর তিনি নিজেকে পরিবারের ওপর একটি বোঝা বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। পরবর্তী নিট পরীক্ষার আগে হাতে যখন মাত্র ছয়-সাত মাস সময়, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন চাকরি করবেন, যাতে পরিবারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো যায়। একের পর এক চাকরির সাক্ষাৎকারে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজের সুযোগ পান।

চাকরি পাওয়ার পর তাঁর সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দিনের বেশিরভাগ সময় অফিসে কাটানোর পরও তিনি পড়াশোনা বন্ধ করেননি। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় ব্যাগে বই নিয়ে যেতেন। কাজের ফাঁকে, লাঞ্চ ব্রেকে কিংবা সামান্য অবসর পেলেই বই খুলে বসতেন। পরীক্ষার আগে তিনি বেতনহীন ছুটিও নিয়েছিলেন, যাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি না থাকে। নিজের পড়ার কৌশলেও পরিবর্তন আনেন। সেই নিরলস পরিশ্রমের ফলও পান। তৃতীয়বার নিট পরীক্ষায় তিনি ৪৫০-এর বেশি নম্বর অর্জন করেন। যদিও সেই নম্বর নিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং বয়সের কথা ভেবে তিনি বুঝতে পারেন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

Success Story of Sanjay B will inspire you.

আরও পড়ুন:ভারতের অর্থনীতিতে আসবে জোয়ার! দেশের এই রাজ্যে তৈরি হবে প্রথম ভাসমান বিমানবন্দর

ঠিক সেই সময়ই তাঁর জীবনে আসে নতুন মোড়। তিনি জানতে পারেন, আইআইটি মাদ্রাজের ‘বিএস ইন ডেটা সায়েন্স’ কোর্সে ভর্তি হতে জেইই অ্যাডভান্সডে র‍্যাঙ্কের প্রয়োজন হয় না, বরং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোয়ালিফায়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই সুযোগ পাওয়া যায়। ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই পরীক্ষায় সফল (Success Story) হন সঞ্জয়। এরপর ডেটা সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে পুণের একটি নামী সংস্থায় ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি তরুণদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, কোনও একটি প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে নিজের যোগ্যতা বিচার করা উচিত নয়। জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে, কিন্তু সেই ব্যর্থতাই শেষ কথা নয়। কঠিন সময়ে নিজের মনের কথা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া জরুরি। কারণ, একটি পরীক্ষা নয়, বরং জীবনের প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।