ভারতের অর্থনীতিতে আসবে জোয়ার! দেশের এই রাজ্যে তৈরি হবে প্রথম ভাসমান বিমানবন্দর

Published on:

Published on:

The country's first floating airport will be built in this state of India.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) পরিকাঠামো উন্নয়নের ইতিহাসে ফের একবার নতুন মাইলফলকের সূচনা। দেশের প্রথম ভাসমান বিমানবন্দর নির্মাণ হতে চলেছে মহারাষ্ট্রে (Maharashtra)। ইতিমধ্যেই রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে এই প্রকল্পকে কতটা বাস্তবায়িত করা যেতে পারে এবং তার জন্য কী কী করণীয় তার সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস (Devendra Fadnavis) সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘উত্তন-ভিরার সি-লিংক’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই প্রকল্পকে শুধু একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ হিসেবে নয়, বরং মহারাষ্ট্র সহ দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও পরিবহণ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের প্রথম সমুদ্রের উপর নির্মিত ভাসমান বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে উঠবে, যা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নিদারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

ভারতের (India) এই রাজ্যে তৈরি হবে দেশের প্রথম ভাসমান বিমানবন্দর

অনেকেরই হয়তো কৌতূহল হচ্ছে, আসলে এই ভাসমান বিমানবন্দর কী এবং সাধারণ বিমানবন্দর থেকে এটি কতটা আলাদা? মূলত সমুদ্রের উপর কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে নির্মাণ করে এই ধরনের বিমানবন্দর গড়ে তোলা হয়। যেখানে বাকি বিমানবন্দরের মতো রানওয়ে, টার্মিনাল ভবন, বিমান পার্কিং, কার্গো সুবিধা এবং অন্যান্য যা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তা গড়ে তোলা হয়। জনবহুল শহরে যেখানে পর্যাপ্ত জমি পাওয়া কঠিন, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই এই ধারণাকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করেছে। যেমন জাপানের কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সমুদ্রের উপর কৃত্রিম ভূমি তৈরি করে নির্মিত হয়েছে। এধরনের বিমানবন্দর শুধু যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য এবং পর্যটনেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার ভারতের (India) মাটিতে কাজে লাগাতে চাইছে মহারাষ্ট্র সরকার।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের মাস্টারস্ট্রোক! খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীর পরিবর্তে ইরানে যাচ্ছেন কারা?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিমানবন্দরটি পালঘর জেলার কোরে বিচের কাছে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, বিমানবন্দরটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯ কোটি যাত্রী এখান থেকে পরিষেবা পাবেন। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুধু একটি বিমানবন্দর নয়, বরং একটি সমন্বিত পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে ভাধাভান গভীর সমুদ্রবন্দর, দ্রুতগতির রেলপথ, আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ। ফলে সমুদ্র, সড়ক, রেল এবং আকাশপথ—চার ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থাকে একসূত্রে বেঁধে একটি শক্তিশালী লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে পণ্য পরিবহণ যেমন সহজ হবে, তেমনি যাত্রীদের যাতায়াতও অনেক দ্রুত ও সুবিধাজনক হয়ে উঠবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাধাবন বন্দরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে ভাসমান বিমানবন্দরের সংযোগ তৈরি হলে মহারাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছতে পারে। বিমানবন্দর নির্মাণ এবং পরবর্তী পরিষেবা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পর্যটন, হোটেল শিল্প, পরিবহণ, রিয়েল এস্টেট এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করাও সহজ হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রকল্প পশ্চিম ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যিক বিকাশে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

 The country's first floating airport will be built in this state of India.

আরও পড়ুন: তৃণমূলের ৪৪০ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিতর্কে নতুন মোড়! কী জানাল কলকাতা হাই কোর্ট?

তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই প্রাথমিক সমীক্ষা এবং সম্ভাব্যতা রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সব ধরনের প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত এবং আর্থিক দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গোটা দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতারও এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বের সামনে আত্মপ্রকাশ করবে ভারতের (India) প্রথম ভাসমান বিমানবন্দর।