বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২১ জুলাই ধর্মতলার ‘শহিদ দিবস’ সমাবেশকে ঘিরে আইনি জট আরও গভীর হল। শুক্রবার আদালত অবমাননার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -সহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে হলফনামা দাখিল করতে হবে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আগামী অগস্ট মাসে মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে বলে জানা গেছে ।
মমতার (Mamata Banerjee) কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের
এই বিতর্কের সূত্রপাত গত বছরের ২১ জুলাই ধর্মতলার রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, সভার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অচল করে রাখা হয়েছিল। এর আগেই কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য শহরের প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না। সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলেই আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত জানায়, এই মামলায় সব পক্ষকে, তাঁদের প্রত্যেককে নিজেদের অবস্থান লিখিতভাবে হলফনামার মাধ্যমে আদালতে জানাতে হবে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ১৯ জুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছিল হাই কোর্ট। পরবর্তীতে সেই মামলারই শুনানিতে আদালত সব পক্ষের কাছ থেকে হলফনামা তলবের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে শহরের রাস্তায় রাজনৈতিক সভা ও মিছিল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার রায়ে কলকাতা হাই কোর্ট একাধিক বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, কোনও বড় বা ব্যস্ত রাস্তা সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করা যাবে না। যানবাহন ও পথচারীদের জন্য অন্তত একটি অংশ সবসময় খোলা রাখতে হবে। একইসঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স-সহ জরুরি পরিষেবার নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে বিকল্প রুট চালু করা এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য আগে থেকেই জনসাধারণকে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন : দূর হবে সমস্যা! রাজ্য সরকারি কর্মী-অবসরপ্রাপ্তদের DA-র জন্য চালু হল হেল্পডেস্ক
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল, বড় রাজনৈতিক সমাবেশের কারণে প্রায়শই কলকাতার স্বাভাবিক যান চলাচল ভেঙে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষ, কর্মজীবী নাগরিক এবং জরুরি পরিষেবার উপর। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রেও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল আদালত।বর্তমান মামলায় আবেদনকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সভায় সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি।এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মামলার সমস্ত পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। অগস্ট মাসে পরবর্তী শুনানিতে সেই হলফনামা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করেই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কলকাতা হাই কোর্ট।













