শিক্ষায় ডিজিটাল বিপ্লব! চর্চায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’, জানুন APAAR-ABC-এর সুবিধা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) ১১ বছর পূর্তিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পদক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সময় এতদিন সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির একটি ছিল প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। মার্কশিট, সার্টিফিকেট বা অন্যান্য শিক্ষাগত নথি হারিয়ে যাওয়া কিংবা যাচাইয়ে দেরি হওয়ার মতো সমস্যাও ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির অগ্রগতির সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি (APAAR), অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিটস (ABC) এবং ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক ডিপোজিটরি (NAD)-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় শিক্ষাগত তথ্য এখন ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ, স্থানান্তর এবং যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির ১১ বছর পূর্তির প্রেক্ষিতে এই তিনটি উদ্যোগ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-এর লক্ষ্য অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার (Digital India) ১১ বছর পূর্তিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পদক্ষেপ

এই উদ্যোগগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল APAAR বা অটোমেটেড পার্মানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি। এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি ১২ সংখ্যার স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয়পত্র। অনেকটা আধারের মতো হলেও এটি শুধুমাত্র শিক্ষাগত তথ্যের জন্য তৈরি করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর স্কুলজীবন থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাগত রেকর্ড—মার্কশিট, সার্টিফিকেট, ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এই একটিমাত্র আইডির সঙ্গে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনও শিক্ষার্থীকে বারবার একই নথি জমা দিতে হবে না কিংবা নথি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অনেকটাই কমে যাবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি’-র মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিরাপদ এবং স্থায়ী ডিজিটাল অ্যাকাডেমিক পরিচয় তৈরি করা (Digital India)।

আরও পড়ুন: সিকিউরিটি গার্ডের ছেলে থেকে IRS অফিসার!UPSC-তে AIR 242, কুলদীপের সাফল্যের গল্প অনুপ্রেরণা লাখো তরুণের

APAAR-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিটস বা ABC। এটি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষার্থীদের অর্জিত সমস্ত একাডেমিক ক্রেডিট এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকে। অনেকটা ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখার মতোই এখানে জমা থাকে শিক্ষাজীবনের অর্জন। জাতীয় শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজন হলে মাঝপথে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুবিধা দেওয়া। সেই ক্ষেত্রে ABC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা সরাসরি এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের শিক্ষাগত তথ্য স্থানান্তর করতে পারবেন। এতে কাগজপত্র বহনের ঝামেলা যেমন কমবে, তেমনই তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও অনেক দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC)।

শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিক ডিপোজিটরি বা NAD। এটি একটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা অনলাইন রিপোজিটরি, যেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সার্টিফিকেট, ডিগ্রি এবং অন্যান্য শিক্ষাগত নথি নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনও সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন হলে খুব সহজেই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর নথির সত্যতা যাচাই করতে পারে। ফলে ভুয়ো সার্টিফিকেট বা জাল নথি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও আর থাকে না। ডিজিটাল সংরক্ষণের ফলে প্রয়োজনের মুহূর্তে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে এই তথ্য সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব।

A major initiative for Indian students to mark the 11th anniversary of Digital India.

আরও পড়ুন: ভিসা ছাড়া আর নয় থাইল্যান্ড সফর!ভারতীয় পর্যটকদের জন্য কড়া নতুন নিয়ম, সঙ্গে রাখতেই হবে এই নথি

বিশেষজ্ঞদের মতে, APAAR, ABC এবং NAD শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নমনীয়, স্বচ্ছ এবং দক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা, এমনকি ভবিষ্যতের কর্মজীবনেও ডিজিটাল শিক্ষাগত পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাগজভিত্তিক নথির উপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়, শ্রম এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির ১১ বছরের পথচলায় শিক্ষাক্ষেত্রে এই উদ্যোগগুলি আগামী দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য এবং আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল (Digital India)।