বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইউপিএসসি পরীক্ষায় সাফল্য (Success Story) অর্জনের স্বপ্ন দেখেন লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কঠিন প্রতিযোগিতা, দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং অনিশ্চয়তা। তবুও কিছু মানুষ প্রমাণ করে দেন, আর্থিক অভাব বা প্রতিকূল পরিস্থিতি কোনও স্বপ্নকেই আটকে রাখতে পারে না। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম কুলদীপ দ্বিবেদী। অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরে তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ইউপিএসসি-তে সাফল্য অর্জন করেন। ২০১৫ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ২৪২তম স্থান অর্জন করে তিনি ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিস (IRS)-এ যোগ দেন। তাঁর এই যাত্রাপথ আজও অসংখ্য ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছে প্রেরণার উৎস।
কুলদীপ দ্বিবেদীর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
কুলদীপের শৈশব কেটেছে আর্থিক অনটনের মধ্যেই। তাঁর বাবা একটি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। সীমিত বেতনে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করাও পরিবারের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই অভাব কোনওদিন কুলদীপের লক্ষ্যকে দুর্বল করতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই দেশের প্রশাসনিক পরিষেবায় কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তাই স্কুলজীবন থেকেই তিনি পড়াশোনাকে গুরুত্ব দেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তাঁকে সবরকম মানসিক সমর্থন দিয়েছেন। সেই উৎসাহই তাঁকে প্রতিটি বাধা অতিক্রম করার শক্তি জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: আধার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! বন্ধ হচ্ছে এই বিশেষ সুবিধা, জানুন বিস্তারিত…
বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাসের ফল মেলে ২০১৫ সালে। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৪২ অর্জন করেন। এই সাফল্যের সুবাদে তিনি ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিসে নির্বাচিত হন। তাঁর এই কৃতিত্ব শুধু পরিবারের জন্য নয়, গোটা এলাকার মানুষের কাছেও গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও যে নিষ্ঠা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব, কুলদীপ দ্বিবেদী তারই জীবন্ত উদাহরণ। তাঁর সাফল্যের খবর বহু তরুণ-তরুণীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।
নিজের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে কুলদীপ বারবার বলেছেন, ইউপিএসসি-তে সফল হওয়ার কোনও শর্টকাট নেই। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক প্রস্তুতি নেওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রতিদিন নিয়মিত পড়াশোনা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে আপডেট থাকা, সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত মক টেস্টের মাধ্যমে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা শুধরে নেওয়ার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। শুধু বেশি সময় পড়াশোনা করলেই হবে না, বরং কীভাবে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্য বজায় রাখাও সমান জরুরি।

আরও পড়ুন: একধাক্কায় ৫ হাজার! রাজ্যের NHM কর্মীদের বেতন বাড়াল সরকার, কবে থেকে মিলবে?
কুলদীপ দ্বিবেদীর জীবনের গল্প আজও প্রমাণ করে, সাফল্যের (Success Story) জন্য সবসময় অর্থ, বিলাসিতা বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন নিজের লক্ষ্যের প্রতি অটল বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনও হাল না ছাড়ার মানসিকতা। আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা প্রতিকূল পরিবেশ কোনও মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না, বরং তাঁর অধ্যবসায়ই প্রকৃত পরিচয় গড়ে দেয়। তাই ইউপিএসসি কিংবা জীবনের যে কোনও বড় লক্ষ্য অর্জনের পথে কুলদীপ দ্বিবেদীর এই সংগ্রামের কাহিনি নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের কাছে এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।













