বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল আলোচিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর (Annapurna Bhandar) আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উত্তরবঙ্গ সফরে তিনি জানিয়ে দেন, প্রকল্পের সুবিধা প্রত্যেক আবেদনকারী পাবেন না। নির্দিষ্ট যোগ্যতার পাশাপাশি কয়েকটি শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের সরকারি টিকাকরণ না হলে সংশ্লিষ্ট পরিবার এই প্রকল্পের আওতার বাইরে চলে যেতে পারে বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ভ্যাকসিন না নিলে মিলবে না অন্নপূর্ণার টাকা (Annapurna Bhandar) , কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
আরও প্রায় দুমাস অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন গ্রহণ করা হবে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে নতুন শর্তগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভারতীয়রা এই প্রকল্পের সুবিধা কোনওভাবেই পাবেন না। যাঁরা সরকারি ভ্যাকসিন বা টিকা নেননি, তাঁরা পাবেন না, যাঁরা তিনটি বিয়ে করেছেন, তাঁরা পাবেন না, আর যাঁরা সরকারি বিদ্যালয়ে না পড়িয়ে নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেন, তারা এই সুবিধা পাবেন না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তিনি কোন সরকারি টিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
নবান্নের সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা সরকারি টিকা বলতে শিশুদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সর্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচি (UIP)’-এর আওতায় দেওয়া বাধ্যতামূলক টিকাগুলিকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যেসব পরিবার সরকারি নিয়ম মেনে সন্তানদের নির্ধারিত টিকা দেয়নি বা ইচ্ছাকৃতভাবে টিকাকরণ থেকে বিরত থেকেছে, তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে পরিচালিত সর্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের একাধিক প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে এমন কিছু পরিবারের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যারা এখনও কুসংস্কার বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে শিশুদের সরকারি টিকা দিতে অনীহা দেখান।
কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে পরিচালিত সর্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচি (UIP)-এর আওতায় শিশুদের বয়সভিত্তিক একাধিক বাধ্যতামূলক টিকা দেওয়া হয়। জন্মের সময় নবজাতককে বিসিজি (BCG), ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন (OPV) এবং হেপাটাইটিস-বি টিকা দেওয়া হয়। এরপর ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে পেন্টাভ্যালেন্ট, ওপিভি, আইপিভি (IPV), রোটাভাইরাস এবং পিসিভি (PCV) টিকা দেওয়া হয়। শিশুর বয়স ৯ মাস হলে হাম-রুবেলা (MR) টিকার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জাপানিজ এনসেফালাইটিসের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। ১৬ থেকে ২৪ মাস বয়সের মধ্যে ডিপিটি বুস্টার, এমআরের দ্বিতীয় ডোজ, ওপিভি এবং পিসিভি বুস্টার দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া ৫ থেকে ৬ বছর বয়সে টিডি (Td) বুস্টার এবং ১০ ও ১৬ বছর বয়সে টিডি (Td) টিকা দেওয়া হয়, যা টিটেনাস ও ডিফথেরিয়ার মতো সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

আরও পড়ুন :শিক্ষকদের জন্য বড় উপহার! ৮ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে ফ্রি চিকিৎসার নতুন স্কিম
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনকারীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর স্পষ্ট, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র আর্থিক যোগ্যতা নয়, সরকারি স্বাস্থ্যনীতি ও শিশুদের বাধ্যতামূলক টিকাকরণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই আবেদন করার আগে সমস্ত শর্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।













