বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় ধরে অচল হয়ে পড়ায় ভারত (India) সহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে হরমুজে (Strait of Hormuz) সঙ্কট দেখা দিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং বহু দেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে পড়ে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশও সেই পরিস্থিতির প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত ছিল না। তবে এই কঠিন সময় কীভাবে দেশ জ্বালানি সংকট সামাল দিয়েছিল, তা নিয়ে শনিবার রাজস্থানের বালোত্রা জেলায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সেই সময়কার সরকারের কৌশল ও পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
মোদি জানালেন কীভাবে হরমুজ বিপর্যয়কালে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা করল ভারত (India)?
প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে ভারত (India) মূলত ২৫ থেকে ২৬টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করত। কিন্তু হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। তাঁর দাবি, কূটনৈতিক উদ্যোগের জোরেই অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছিল। এর ফলে কোনও একটি অঞ্চল বা নির্দিষ্ট রুটের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যায় এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও সচল রাখা সম্ভব হয়। মোদির কথায়, এই বহুমুখী আমদানি নীতিই ভারতের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে দেয়নি।
আরও পড়ুন: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই সফল অঞ্জনি
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলির প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছিল। তবে সেই আর্থিক চাপ সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলেই দাবি তাঁর। মোদি বলেন, সরকার প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যাতে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কিছুটা হলেও কমানো যায়। তাঁর মতে, সংকটের সময় সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বাজারে অস্থিরতা কমিয়ে আনা। সেই কারণেই প্রয়োজনীয় আর্থিক বোঝা সরকার নিজেই বহন করেছে।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সেই সময় বিভিন্ন মহল থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছিল এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কিছু অসাধু শক্তি ভারতের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করলেও সরকার দ্রুত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। মোদির ভাষায়, যারা ভারতের ব্যর্থতা দেখতে চেয়েছিল, তারা শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতার নিরিখে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। জ্বালানি পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে তাঁর দাবি।

আরও পড়ুন: সীমান্ত শক্তি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ! ভারত কিনছে ৫২,০০০ কোটির সমরাস্ত্র, তালিকায় থাকছে কী কী?
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক সার সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ফলে ভারত সেই সংকটও সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি আত্মনির্ভর ভারতের (India) লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলায় দেশকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, এই তিন ক্ষেত্রেই সরকার আগামী দিনেও সমান গুরুত্ব দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।













