বাংলাহান্ট ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) প্রণামী ও মূল্যবান সামগ্রী সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই আবহেই সোমবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। বৈঠকের পর জানা যায়, ট্রাস্টের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের (Champat Rai) ইস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাস্টি অনিল মিশ্রের পদত্যাগও মঞ্জুর হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ট্রাস্টের অন্তর্বর্তীকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণ মোহনকে। রাম মন্দিরের আর্থিক লেনদেন ও প্রণামী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর ট্রাস্টের শীর্ষস্তরে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থায়ী সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কৃষ্ণ মোহনই এই দায়িত্ব সামলাবেন।
রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Temple) প্রণামী চুরি বিতর্কের পর চম্পত রাইয়ের ইস্তফা
এই বিতর্কের সূত্রপাত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী হিসেবে ৩,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা জমা পড়েছে। এর পাশাপাশি ভক্তদের দান করা বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপোর গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও মন্দিরের হেফাজতে ছিল। কিন্তু তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, এই সম্পদের একটি বড় অংশের কোনও স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু নগদ অর্থ বা গয়নাই নয়, দানে পাওয়া রুপোর তৈরি একটি বিশেষ ভাস্কর্য বা অলঙ্কারও নিখোঁজ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের সঙ্গে কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগসূত্র মিলেছে। তবে এই অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি (Ayodhya Ram Temple)।
আরও পড়ুন: মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে ৩ লক্ষ টাকায় শুরু করেন ব্যবসা! ৫ কোটির ব্র্যান্ড গড়ে চমকে দিলেন ইশা
সিটের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনায় নতুন মোড় আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং তদন্ত আরও জোরদার হয়। ট্রাস্টের সদস্য কৃষ্ণ মোহনই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরই চম্পত রাই সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় এখনও আসেনি, তবুও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ট্রাস্টের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ মোহন পেশাগত জীবনে মহারাষ্ট্র ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বন পরিষেবা (আইএফএস) আধিকারিক। উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি অবসরের পর সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। যদিও জনসমক্ষে তিনি খুব বেশি পরিচিত নন, তবুও ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেই জানা যায়। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী দায়িত্বের জন্য তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাস্ট সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন: ফর্সা হতে গিয়ে সর্বনাশ! ‘ফেয়ারনেস ক্রিম’ মেখে কিডনি বিকল অনেকের, বড় পদক্ষেপ সরকারের
এই ঘটনার পর রাম মন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা ও দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোটি কোটি টাকার অনুদান পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও আধুনিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিটের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলেও মত আইন বিশেষজ্ঞদের। তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে (Ayodhya Ram Temple)।













