ইলন মাস্ককে কড়া টক্কর! SpaceX-এর সমমানের রকেট ইঞ্জিন তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিল ভারতের কোম্পানি

Published on:

Published on:

Indian company Astrobase stunned everyone by developing rocket engine same as SpaceX.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের সাক্ষী হল। দেশের বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে এবার এমন একটি রকেট ইঞ্জিন তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতের পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট নির্মাণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্টার্টআপ অ্যাস্ট্রোবেস (Astrobase) স্পেস টেকনোলজিস দেশের প্রথম ‘ফুল-ফ্লো স্টেজড কম্বাশন’রকেট ইঞ্জিন তৈরির দাবি করেছে। সংস্থার নিজস্ব পরীক্ষাকেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশে ইতিমধ্যেই এই ইঞ্জিনের প্রাথমিক ট্রায়াল শুরু হয়েছে। সংস্থার মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক রকেট প্রপালশন প্রযুক্তিগুলির অন্যতম এবং ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতের (India) পক্ষেও স্পেসএক্সের (SpaceX) মতো পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। যদি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ কর্মসূচি নতুন গতি পাবে।

SpaceX-এর সমমানের রকেট ইঞ্জিন তৈরি করে চমকে দিল ভারতের অ্যাস্ট্রোবেস (Astrobase)

‘ফুল-ফ্লো স্টেজড কম্বাশন’ বা FFSC প্রযুক্তি বর্তমানে রকেট ইঞ্জিনের অন্যতম জটিল এবং উন্নত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রচলিত রকেট ইঞ্জিনে জ্বালানির একটি অংশ কেবল টার্বোপাম্প চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, ফলে কিছু শক্তির অপচয় ঘটে। কিন্তু FFSC প্রযুক্তিতে মিথেন ও তরল অক্সিজেন, উভয় জ্বালানিই সম্পূর্ণভাবে দহন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, ইঞ্জিনের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং অনেক বেশি থ্রাস্ট উৎপন্ন করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতাও বাড়ে। এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হল, একই ইঞ্জিন একাধিকবার ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়, যা মহাকাশ অভিযানের সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে (Astrobase)।

আরও পড়ুন: ভারতীয় জাহাজে হামলা ইরানের! নিখোঁজ ১ নাবিক, জোরকদমে চলছে তল্লাশি

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি গত কয়েক বছরে দ্রুত অগ্রসর হলেও, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এখনও অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হবে। বর্তমানে ভারতের সক্রিয় উপগ্রহের সংখ্যা প্রায় ৫৫টি। অন্যদিকে চিনের প্রায় ১,৫০০টি এবং আমেরিকার ১৩ হাজারেরও বেশি সক্রিয় স্যাটেলাইট মহাকাশে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত, কম খরচে এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি সফলভাবে আয়ত্ত করতে পারলে শুধু সরকারি মহাকাশ কর্মসূচিই নয়, বেসরকারি মহাকাশ শিল্পও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এতে বিদেশি গ্রাহকদের জন্য স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সুযোগ বাড়বে এবং ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

অ্যাস্ট্রোবেস স্পেস টেকনোলজিস ইতিমধ্যেই তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে। সংস্থার লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বুস্টার রকেটের ‘হপ টেস্ট’ সম্পন্ন করা। এরপর সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের মধ্যেই ভারতের প্রথম বেসরকারি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট লো-আর্থ অরবিটে (LEO) উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। সংস্থার দাবি, এই রকেট একবারে প্রায় ৩ টন পর্যন্ত পেলোড মহাকাশে বহন করতে সক্ষম হবে। সফল হলে এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি তৈরির পথ খুলে দেবে।

Indian company Astrobase stunned everyone by developing rocket engine same as SpaceX.
SpaceX-এর সমমানের রকেট ইঞ্জিন তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিল অ্যাস্ট্রোবেস

আরও পড়ুন: ভারতে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে পাকিস্তানে গা-ঢাকা হিজবুল জঙ্গির! বড় পদক্ষেপ ইন্টারপোলের

বিশ্বজুড়ে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা এখন আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় স্টার্টআপগুলির উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নতুন পরিচয় তুলে ধরছে। যদিও এই প্রকল্প এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব ব্যবহারের আগে একাধিক ধাপের পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন বাকি, তবুও এই সাফল্য দেশের মহাকাশ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মহাকাশ অভিযানের খরচ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারেও ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারতের মহাকাশ স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে (Astrobase)।