বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় (Bank of Baroda) বড় ধরণের ডেটা লিক (Data Leak) বা তথ্য ফাঁসের খবর সামনে এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ডার্ক ওয়েবে এই তথ্যগুলি ছড়িয়ে গেছে। দাবি করা হচ্ছে যে, হ্যাকারদের কাছে ব্যাঙ্কের প্রায় ১ টেরাবাইট ডেটা রয়েছে। যেখানে, এই ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ঋণের নথি থেকে শুরু করে পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। গত ২৭ জুলাই, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আশ্বস্ত হওয়ার মতো খবর হল, গ্রাহকদের টাকা নিরাপদ আছে। হ্যাকাররা ব্যাঙ্কের সেই সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারেনি, যেখানে টাকার লেনদেন হয়। তবে, আসল হুমকি হ্যাকারদের থেকে নয়, বরং এই ফাঁস হওয়া তথ্যকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকদের বাড়বাড়ন্ত হতে পারে। এমতাবস্থায়, আপনিও যদি এই ব্যাঙ্কের গ্রাহক হন সেক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্ট (Bank Account) সুরক্ষিত রাখতে কী কী করণীয় সেই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য বর্তমান প্রতিবেদনে উপস্থাপিত করা হল।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় (Bank of Baroda) গ্রাহকদের ডেটা লিক!
গ্রাহকদের টাকা নিরাপদ আছে: ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের প্রধান সিস্টেম, যেখানে টাকার লেনদেন হয়, তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। হ্যাকাররা সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। মূলত, ব্যাঙ্কের একজন কর্মচারীর ইমেল অ্যাড্রেস হ্যাক হয়েছিল এবং কিছু তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ‘ট্রিপ্লেক্স’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ এটি ফাঁস করার দাবি করেছে। এই তথ্য ফাঁসের মধ্যে গ্রাহকদের নাম, অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং কিছু ছবি বা আইডি প্রুফ থাকতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাথায় রাখতে হবে যে, শুধু তথ্য ফাঁস হলেই আপনার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাবে না। শুধুমাত্র গ্রাহকদের নাম, আধার বা প্যান কার্ড নম্বর ব্যবহার করে কেউ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবে না। টাকা তুলতে হলে গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড, এটিএম পিন অথবা ফোনে পাঠানো OTP লাগবে। এবং এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় হ্যাকাররা এগুলো পায়নি। সাইবার বিশেষজ্ঞরা আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে এটি পরিচয় চুরির ঘটনা, অর্থ চুরির নয়।

আসল চিন্তা প্রতারকরা: এবার আসল চিন্তা নিয়ে কথা বলা যাক। প্রতারকরা এই ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের ধোঁকা দিতে পারে। ধরুন, একজন গ্রাহকের কাছে ফোন এল। যেখানে অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি গ্রাহকের নাম, ব্রাঞ্চ এবং অ্যাকাউন্টের শেষ ৪ টি সংখ্যা সঠিকভাবে বলে দিল। অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি এটাও জানাল, ‘আমি ব্যাঙ্ক অফ বরোদার সিকিউরিটি টিম থেকে ফোন করছি। আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হচ্ছে।’ এতে স্বাভাবিকভাবেই ফোনের এপ্রান্তে থাকা গ্রাহক ভয় পেয়ে গিয়ে এই কথা বিশ্বাস করে ফেলতে পারেন। তারপর OTP চাইলে এটি প্রদান করলেই প্রতারিত হতে পারেন ওই গ্রাহক। মনে রাখবেন, পৃথিবীর কোনও ব্যাঙ্ক কখনও ফোন বা টেক্সটের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে ওটিপি, সিভিভি বা পাসওয়ার্ড চায় না। তাই, এদিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনপ্রিয় ‘ফ্রেন্ডস’ ভিডিও আচমকাই উধাও! ক্ষমা চেয়ে কী বার্তা দিল Meta?
তাহলে কী ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া উচিত: বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে তথ্য ফাঁসের ভয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আজকাল আমাদের অনেক তথ্যই অনলাইনে পাওয়া যায়, এবং এই ধরণের ঘটনা প্রায়শই অন্যান্য ব্যাঙ্ক ও কোম্পানির ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে, গ্রাহককে শুধু সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও, ওটিপি ও পাসওয়ার্ড, কাউকে প্রদান করবেন না।
আরও পড়ুন: জাদেজার প্রত্যাবর্তন! শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট দলের ঘোষণা BCCI-র, প্রথমবার সুযোগ পেলেন সারাংশ জৈন
অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করুন:
১. আজই আপনার নেট ব্যাঙ্কিং এবং ব্যাঙ্ক মোবাইল অ্যাপের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। এছাড়াও, আপনার ব্যাঙ্ক থেকে পাওয়া প্রতিটি এসএমএস এবং ইমেল (ট্রানজাকশন অ্যালার্ট) মনোযোগ সহকারে পড়ুন; সেগুলি উপেক্ষা করবেন না।
২. আপনার ফোনে যদি ‘আপনার KYC আপডেট করুন’ বা ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে’ লেখা কোনও লিঙ্ক আসে, তবে তাতে ক্লিক করবেন না। আজকাল এই ধরণের ভুয়ো বার্তার সংখ্যা বাড়ছে। UIDAI-র ওয়েবসাইট বা mAadhaar অ্যাপে গিয়ে আপনার আধার কার্ডের বায়োমেট্রিক লক করুন। এতে মাত্র ৫ মিনিটের মতো সময় লাগে।
৩. এছাড়াও, আপনার CIBIL রিপোর্ট চেক করুন। এর মাধ্যমে জানা যাবে, অন্য কেউ আপনার নাম ও আইডি ব্যবহার করে লোন নিয়েছে কি না। আপনার অ্যাকাউন্টে কোনও গরমিল দেখলে, সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ককে জানান এবং ১৯৩০ নম্বরে সাইবার পুলিশকে ফোন করুন। বাড়িতে বসে থাকবেন না। এছাড়াও, আপনার ব্যাঙ্কে সবসময় আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বর এবং ইমেল অ্যাড্রেস আপডেট করুন।













