বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের। এবার স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শুধু স্থায়ী শিক্ষক-শিক্ষিকাই নন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিরাও পড়ুয়াদের সঙ্গে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্র সরকারের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ (Vidyanjali scheme) কর্মসূচিকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার গুণগত মান যেমন বাড়বে, তেমনই পড়ুয়ারাও বইয়ের বাইরের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
কীভাবে বিদ্যাঞ্জলি প্রকল্পে (Vidyanjali scheme) নাম নথিভুক্ত করবেন ?
এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি স্কুলগুলিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পাঠদান করতে পারবেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। শিক্ষা দপ্তরের মতে, সমাজে ছড়িয়ে থাকা দক্ষ মানবসম্পদকে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজে লাগানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পে যুক্ত হতে হলে আগ্রহী ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে।
এই প্রকল্পে আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক হলেই তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। বিএড ডিগ্রি অথবা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এখানে কোনও বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। নিজের দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার সুযোগ মিলবে।
এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক, প্রাক্তন সেনাকর্মী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের পেশাদার, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি-সহ নানা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জন্য। তাঁদের দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ব্যবহারিক জ্ঞান সরাসরি পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান সময়ের চাহিদা মাথায় রেখে পড়ুয়াদের বিভিন্ন জীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তুলতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইচ্ছুক ব্যক্তিদের প্রথমে বিদ্যাঞ্জলি পোর্টালে প্রবেশ করে ‘Become a Volunteer’ অপশনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বর্তমান পেশা, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জমা দিতে হবে। নিবন্ধন সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারী নিজের পছন্দ অনুযায়ী জেলা এবং বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের পর উপযুক্ত ব্যক্তিদের পাঠদানের জন্য অনুমোদন দেবে।

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ঘোষণা! পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, এক শিক্ষাবর্ষেই ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ
বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে সমাজের অভিজ্ঞ মানুষদের নিয়ে আসার এই উদ্যোগকে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিশা হিসেবে দেখছে শিক্ষা মহল। পরিকল্পনা সফলভাবে কার্যকর হলে পড়ুয়ারা শুধু পাঠ্যসূচির জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন পেশার মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার সুযোগ পাবে। ফলে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষা আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং বাস্তবমুখী হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।













