বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাতারাতি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৪৭ কোটি টাকা। রহস্যজনক ভাবে আসা এই বিপুল অর্থের উৎস কোথায়? তা নিয়ে সন্দিহান খোদ ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিক তথা বেলেঘাটার (Beleghata) বাসিন্দা তথা ক্লাউড কীচেন ব্যবসায়ী নুপুর গুপ্তা নামের ওই মহিলা। হঠাৎ করে নিজের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (Punjab National Bank) অ্যাকাউন্টে এই বিরাট অঙ্কের টাকা আসার জানতে পেরে তাজ্জব বনে গিয়েছেন ওই মহিলা নিজেই। যদিও ইতিমধ্যেই টাকার উৎস খুঁজতে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে ব্যাংক ও পুলিশ বিভাগ।
হটাৎ করেই অ্যাকাউন্টে ৪৭ কোটি টাকা
আসলে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সাইবার ক্রাইমের সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই শোনা যায় লক্ষাধিক টাকা খোয়াতে হচ্ছে বহু মানুষকে। আর এই সমস্ত মার যাওয়া টাকা অনেক সময় বিভিন্ন অ্যাকাউন্টার মাধ্যমে ঘুরিয়ে তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। এছাড়া ব্যাঙ্কিং ভুলত্রুটির কারণেও অনেক সময় হটাৎ করেই অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা ঢুকে যেতে পারে। যদিও সেটা ধরা পড়তেই অ্যাকাউন্টটি প্রথমে হোল্ড বা ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। তারপর টাকাটা পুনরায় আসল জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে কোনটি হয়েছে বা কোথা থেকে কীভাবে এত টাকা এল কিছুই বুঝতে না পেরে তিনি ছুটে যান বেলেঘাটা থানায়। ক্লাউড কিচেনের ব্যবসায়ী ওই মহিলা কয়েকদিন ধরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পয়সা লেনদেন করতে পারছিলেন না। নুপুরদেবীর খরিদ্দাররাও তার কাছে টাকা পাঠাতে পারছিলেন না।
আরও পড়ুনঃ SIR-এ নাম বাদ গেলেও রেশন নিয়ে চিন্তা নেই! আমজনতাকে স্বস্তি দিয়ে বড় পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের
আয়কর দফতর থেকে ফ্রিজ করে দেওয়া হয় অ্যাকাউন্ট
যেমনটা জানা যাচ্ছে, বিগত ফেব্রুয়ারি মাসেই গুগুল পে অ্যাপের মাধ্যমে নূপুরদেবী দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে নাকি ৪৭ কোটি ২৫ লক্ষ ৪৮ হাজার ২৮১ টাকা জমা হয়েছে। এই বিরাট অঙ্কের টাকা লেনদেন করার বিষয়টি নজরে আসতেই আয়কর দপ্তরের তরফে ওই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এমনকি ব্যাংকের কাছেও সমস্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়।
ব্যাঙ্কের তরফ থেকে বলা হয়েছে নুপুর দেবীর অ্যাকাউন্টটি হয়তো তার অজান্তেই ‘ক্লোন’ করা হয়েছিল। অনেকে আবার বলছেন, ‘কেউ তা ‘লিয়েন’ নিয়েছিল, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।’
প্রসঙ্গত প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান সাইবার অপরাধীরা সম্ভবত তাদের অবৈধ অর্থ রাখার জন্য নুপুর দেবীর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করেছিল। সূত্রের খবর, নুপুর দেবী তার ক্লাউড কিচেনে বাড়িতে তৈরি খাবার বিক্রি করেন । অন্যদিকে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান সাইবার অপরাধীরা হয়তো তাদের বেআইনি অর্থ রাখার জন্য নুপুর দেবীর অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করেছিল।













