বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য আগের সরকার কন্যাশ্রী ও সবুজসাথী প্রকল্প (Government Scheme) চালু করেছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই দুই স্কিমের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে কন্যারত্ন (Kanyaratna Scheme) ও সারথী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগে প্রত্যেক বছর ১৪ আগস্ট কন্যাশ্রী দিবস পালিত হত, এবার কন্যারত্ন দিবস হিসেবে উদযাপিত হবে। নাম পরিবর্তনের পর এই প্রকল্পের যোগ্যতা থেকে আবেদন পদ্ধতিতেও কি বদল এসেছে? জেনে নেওয়া যাক।
কন্যারত্ন স্কিমের খুঁটিনাটি | (Kanyaratna Scheme)
২০১৩ সালে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসার, মেয়েদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া, স্কুলছুটের হার কমানো সহ একাধিক লক্ষ্যে এই প্রকল্প শুরু হয়। তৎকালীন রাজ্য সরকারের এই স্কিম আন্তর্জাতিক স্তরেও বড় স্বীকৃতি লাভ করেছে।
আরও পড়ুনঃ অগাস্টের ৩ তারিখ হয়ে গেল, এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢুকলে কী করতে হবে জেনে নিন
কন্যারত্ন স্কিমের যোগ্যতা
কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া ছিল।
১) আবেদনকারী ছাত্রীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২) পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজারের মধ্যে হতে হবে।
৩) আবেদনকারীকে রাজ্য সরকার স্বীকৃত কোনও বিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে হবে।
৪) আবেদনকারীর বয়স ১৩-১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। কে-২ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
৫) এককালীন ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার জন্য ছাত্রীকে অবিবাহিতা হতে হবে ও বয়সসীমা ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।
তবে আয়ের সীমা সংক্রান্ত শর্তের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ছাড়ের কথাও বলা হয়েছে। কোনও ছাত্রীর মা-বাবা দু’জনেরই মৃত্যু হলে/ আবেদনকারী ছাত্রী জুভেনাইল জাস্টিস হোমের আবাসিক হলে/ কোনও ছাত্রী ৪০% অথবা তার বেশি শারীরিকভাবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন হলে আয়ের ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য নয়।
কন্যারত্ন স্কিমে আবেদন পদ্ধতি
কন্যাশ্রী প্রকল্পে স্কুলের মাধ্যমে আবেদন করা যেত। আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহযোগে বিদ্যালয়ে জমা দিতে হত। তবে কন্যারত্ন স্কিমের আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে এখনও কিছু জানানো হয়নি। শীঘ্রই এই বিষয়ে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কন্যারত্ন স্কিমের প্রয়োজনীয় নথিপত্র
কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদনপত্রের সঙ্গে বেশ কিছু নথিপত্র জমা করতে হত।
১) আবেদনকারীর জন্ম শংসাপত্র।
২) অবিবাহিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ছাত্রী ও তাঁর অভিভাবকের সই করা একটি স্ব-ঘোষণা।
৩) পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র।
৪) ছাত্রীর ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।
৫) আধার কার্ড।
৬) পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
এছাড়া আবেদনকারীর মা-বাবার মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁদের মৃত্যু শংসাপত্র ও আবেদনকারী বিশেষভাবে সক্ষম হলে সেই সংক্রান্ত শংসাপত্র জমা করতে হত।

কন্যাশ্রী প্রকল্পে মূলত তিনটি ধাপে ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা করত তৎকালীন রাজ্য সরকার। প্রথম, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্রীদের বছরে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। দ্বিতীয়, ছাত্রীর ১৮ বছর পূর্ণ হলে ও সে অবিবাহিতা থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা মিলত। তৃতীয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের জন্যও এই প্রকল্পে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা ছিল।
তৃণমূল আমলের কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম বদল করে কন্যারত্ন করেছে বিজেপি সরকার। রাজ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রকল্প আরও সুসংগঠিতভাবে ভাবে রাজ্য জুড়ে পরিচালিত হবে। তবে এই স্কিমের যোগ্যতা থেকে আবেদন পদ্ধতিতে কোনও বদল আসবে কিনা তা রাজ্য সরকারের ঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তির পরেই স্পষ্ট হবে।
















