মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার ইঙ্গিতে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন! ভারতে কমবে জ্বালানির মূল্য?

Published on:

Published on:

Signs of conflict easing in the Middle East—will fuel prices drop in India?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার আবহে এবার কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে (Fuel Price) উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক হামলার অনুমোদন দেবেন না। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই ঘোষণার পরই বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে। রবিবার রাতেই মার্কিন ক্রুড অয়েলের (Crude Oil) দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও একই হারে কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপিছু ৮৩.৮৭ ডলারে। যদিও এই পতনের পরও সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় তেলের দাম এখনও প্রায় ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার ইঙ্গিত, ভারতে কমবে জ্বালানির মূল্য (Fuel Price)?

আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে (Fuel Price) এই অস্থিরতার সূচনা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একাধিক তেলবাহী জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে আটকে যায় বা বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়। এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। কয়েক দফায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারের গণ্ডিও ছাড়িয়ে যায়, যার প্রভাব বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে পড়ে।

আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর স্থাপনের সিদ্ধান্ত এই দেশের

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রশমিত হয়, তাহলে তার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতদিন যে তেলবাহী জাহাজগুলি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আটকে ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেগুলি আবার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে দামের উপর আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় তার উপর। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

এই সংঘাতের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার জেরে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে, অনেক দেশে যাতায়াতের খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। কোথাও কোথাও জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে। এমনকি কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে স্কুল, সরকারি অফিস এবং বিভিন্ন পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্যের সুযোগে বহু তেল ও গ্যাস সংস্থা উল্লেখযোগ্য লাভ করেছে।

Signs of conflict easing in the Middle East—will fuel prices drop in India?

আরও পড়ুন: চলতি সপ্তাহেই বড় চমক! বাংলাদেশ ছাড়ার পর প্রথমবার ভারতে জনসমক্ষে আসছেন শেখ হাসিনা

তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম (Fuel Price) কমতে শুরু করলেও তার সুফল ভারতীয় গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে পাবেন, এমনটা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে না। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ছাড়াও ডলার-রুপির বিনিময় হার, তেল শোধনের ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর, এই সবকটি বিষয় মিলিয়েই চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই বিশ্ববাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করলেও দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে সেই স্বস্তি কবে পৌঁছবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।