বাংলহান্ট ডেস্ক: সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ (Article 370) বাতিলের বর্ষপূর্তিতে ফের কাশ্মীর ইস্যুতে মুখোমুখি হল ভারত ও পাকিস্তান (India-Pakistan)। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কেন্দ্র সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই দিনটিকেই পাকিস্তান প্রতিবছরের মতো এবারও ‘ইয়োম-ই-ইস্তেহসাল’ হিসেবে পালন করেছে এবং এ উপলক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তাঁর মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নয়াদিল্লির (New Delhi) স্পষ্ট বক্তব্য, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এই নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য বা অবস্থানের কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। একই সঙ্গে ইসলামাবাদকে নিজেদের দেশের নাগরিকদের অধিকার রক্ষার দিকেই মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে ভারত।
৩৭০ অনুচ্ছেদ (Article 370) বাতিলের প্রসঙ্গে পাকিস্তানের নাক গলানো নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের:
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মন্ত্রকের দাবি, ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কেন্দ্রের মতে, এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে। তাই ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য কোনও দেশের মন্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই বলেই নয়াদিল্লি মনে করে।
আরও পড়ুন: প্রথম কিস্তি পেলেও মিলবে না দ্বিতীয় কিস্তি! পশ্চিমবঙ্গ আবাসের টাকা এবার কারা পাবেন না জানুন
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে ভারত অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদ বারবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, এই ধরনের প্রচারে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না। বরং পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ এবং নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়া। ভারতের দাবি, কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলি আড়াল করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে বলে দাবি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের বক্তব্য, এই বাস্তব পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান বারবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক স্তরে উত্থাপন করার চেষ্টা করছে। তবে এই ধরণের প্রচার এখন আর বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: হাসিনার ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জের? শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা, ধরানো হল আগুন
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাশ্মীর ইস্যু বরাবরই অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। ৩৭০ অনুচ্ছেদ (Article 370) বাতিলের পর থেকেই এই প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে যে এটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়। বুধবারের বিবৃতিতেও সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর কিংবা লাদাখের বিষয়ে কোনও ধরনের বাইরের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্যকে ভারত গুরুত্ব দেয় না। নয়াদিল্লির মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আগের মতোই অটুট থাকবে।













