বাংলাহান্ট ডেস্ক: শারীরিক প্রতিকূলতা যে স্বপ্নপূরণের বা সাফল্যের (Success Story) পথে শেষ কথা নয়, তা নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়েছেন দিল্লির সৌম্যা শর্মা (Saumya Sharma)। মাত্র ১৬ বছর বয়সে শারীরিক সমস্যার কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতেও পড়াশোনা থামাননি তিনি। আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর ঠিক করেন, দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসবেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষাতেই সাফল্য অর্জন করে আইএএস অফিসার হন সৌম্যা। তাঁর এই যাত্রা শুধু পরীক্ষায় সফল হওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
সৌম্যা শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
আইনের ডিগ্রি শেষ করার পর ২০১৭ সালে প্রথমবার UPSC পরীক্ষায় বসেন সৌম্যা। তবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রস্তুতির জন্য তাঁর হাতে ছিল মাত্র প্রায় চার মাস। এত অল্প সময়ে বিশাল সিলেবাস শেষ করা সহজ ছিল না। তাই সময় নষ্ট না করে নিজের জন্য একটি কঠোর রুটিন তৈরি করেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা মন দিয়ে পড়াশোনা করতেন। কোন বিষয় কতটা পড়তে হবে, কোথায় বেশি সময় দেওয়া প্রয়োজন এবং কোন অংশ দ্রুত শেষ করা সম্ভব—সবকিছু নিজের মতো করে পরিকল্পনা করেছিলেন। সীমিত সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপেই তিনি শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেন (Success Story)।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজের দাম থেকে শুরু করে LPG! কীভাবে বাড়ছে রান্নাঘরের খরচ? চিন্তা বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান
সৌম্যার প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সেলফ-স্টাডির উপর নির্ভরতা। কোনও কোচিং প্রতিষ্ঠানের উপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পড়ার কৌশল তৈরি করেছিলেন তিনি। কম সময়ের মধ্যে পুরো সিলেবাস শেষ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় বিষয় এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে বেশি নজর দেন। বারবার রিভিশন করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের শর্ট নোট তৈরি করা ছিল তাঁর প্রস্তুতির অন্যতম কৌশল। তাঁর মতে, UPSC-এর মতো পরীক্ষায় শুধু দীর্ঘ সময় পড়লেই হয় না, সেই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের প্রস্তুতির ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তবে মেইনস পরীক্ষার সময় সৌম্যার সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরীক্ষার দিনগুলিতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে প্রতিদিন পরীক্ষার মাঝেই তাঁকে তিনবার করে স্যালাইন নিতে হত। হাতে স্যালাইনের চ্যানেল নিয়েই একের পর এক পরীক্ষার উত্তরপত্র লিখে গিয়েছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। পরীক্ষার চাপ, অসুস্থতা এবং সময়ের সীমাবদ্ধতা—সবকিছুর মধ্যেই নিজের লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ ধরে রাখেন সৌম্যা। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই কঠোর পরিশ্রম সফল হয় এবং UPSC Civil Services পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি।

সৌম্যার এই সাফল্যের (Success Story) পিছনে কোনও একটি বিষয়কে আলাদা করে দেখেন না তিনি। তাঁর মতে, UPSC-এর মতো কঠিন পরীক্ষায় ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের জন্য সঠিক স্ট্র্যাটেজি তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা করা এবং তৈরি করা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর প্রয়োজন এবং পড়ার ধরন এক নয়। তাই শুধু অন্যদের অনুসরণ না করে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে প্রস্তুতির কৌশল তৈরি করা দরকার। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে সময়কে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে কোচিং ছাড়াও সাফল্য পাওয়া সম্ভব—সৌম্যার নিজের পথচলাই তার বড় উদাহরণ।













