বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইথানল-মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ নিয়ে যখন দেশজুড়ে জ্বালানি ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই পরিবহণের (Flying Vehicle) ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন উত্তরাখণ্ডের এক তরুণ। আলমোড়া জেলার কাফলিখান গ্রামের বাসিন্দা রবি তামতা তৈরি করেছেন একটি অভিনব ‘উড়ন্ত গাড়ি’, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই যানটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। অর্থাৎ এটি চালাতে পেট্রল, ডিজেল কিংবা ইথানলের প্রয়োজন হবে না। ইতিমধ্যেই গাড়িটির পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে রবির এই উদ্ভাবনকে ঘিরে প্রযুক্তিপ্রেমী ও পরিবেশসচেতন মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভারতের প্রথম ‘বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ি’ (Flying Vehicle) বানিয়ে তাক লাগালেন উত্তরাখণ্ডের রবি
রবির পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিগত আকাশযানের ধারণা। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন যান তৈরি করা সম্ভব হলে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার কথা মাথায় রেখেই তিনি প্রকল্পটি নিয়ে এগিয়েছেন। উত্তরাখণ্ডের মতো পার্বত্য রাজ্যে বহু জায়গায় রাস্তা দুর্গম, সরু এবং যাতায়াতের জন্য সময়সাপেক্ষ। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনো যথেষ্ট কঠিন হয়ে ওঠে। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখে আকাশপথে ব্যক্তিগত যাতায়াতের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য (Flying Vehicle)।
আরও পড়ুন: পেঁয়াজের দাম থেকে শুরু করে LPG! কীভাবে বাড়ছে রান্নাঘরের খরচ? চিন্তা বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান
‘হাপিডা স্কাইনেক্স’-এর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর বিদ্যুৎনির্ভর প্রযুক্তি। প্রচলিত পেট্রল বা ডিজেলচালিত গাড়ির মতো জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন না থাকায় এই যান থেকে ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের সমস্যা নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে। ফলে পরিবহণ ব্যবস্থায় দূষণ কমানোর দিক থেকেও এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রবির লক্ষ্য শুধু একটি উড়ন্ত যান তৈরি করা নয়; বরং ভারতে নিরাপদ, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব ব্যক্তিগত আকাশযান তৈরির একটি বাস্তবসম্মত মডেল দাঁড় করানো।
A remarkable innovation has emerged from Kaflikhan village near Jageshwar Dham in Almora, Uttarakhand. Young innovator Ravi Tamta has successfully tested the prototype of HAPIDA SKYNeX, an electric personal flying vehicle developed by his company, Hapida Sky Private Limited.
This… pic.twitter.com/Vyn9CE8BGr— Manjeet Negi (@manjeetnegilive) August 7, 2026
ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’-এর উড়ান সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রযুক্তি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হওয়া মানেই যে যানটি এখনই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, তা নয়। আকাশপথে যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা, ব্যাটারির ক্ষমতা এবং সরকারি অনুমোদনের মতো একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রবির তৈরি যানটি আপাতত গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে এটি কবে ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে এখনই কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

তবুও উত্তরাখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামের এক তরুণের এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের পরিবহণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়েই বৈদ্যুতিক যান এবং আকাশপথে স্বল্প দূরত্বের ব্যক্তিগত পরিবহণ নিয়ে গবেষণা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘হাপিডা স্কাইনেক্স’ দেশের নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতার একটি উদাহরণ হিসেবে নজর কেড়েছে। রবির আশা, প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হলে একদিন এই ধরনের পরিবেশবান্ধব আকাশযান দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতকে সহজ করে তুলতে পারে। যদিও সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে এখনও বেশ কিছু পরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন, তবু পেট্রল-ডিজেলনির্ভর পরিবহণের বাইরে নতুন পথ খোঁজার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছে (Flying Vehicle)।













