বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) জনসংখ্যার (Population) চেহারা আগামী কয়েক দশকে যে দ্রুত বদলাতে চলেছে, তারই ইঙ্গিত মিলেছে ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া (TRI)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। রিপোর্টের তথ্য বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রতি পাঁচ জন মানুষের মধ্যে অন্তত একজনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে পারে। বর্তমান জনসংখ্যার হিসাব ধরে এই সংখ্যা প্রায় ৩৪.৭ কোটিতে পৌঁছতে পারে, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বার্ধক্যের এই প্রবণতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে ভারত এখনও পুরোপুরি অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ হয়ে ওঠার আগেই একটি ‘বয়স্ক’ সমাজের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতে ক্রমশ বাড়ছে জনসংখ্যার (Population) বয়স, প্রকাশ্যে উদ্বেগজনক তথ্য
টিআরআই এবং ইন্ডিয়া রুরাল কোলাবরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘ডেমোগ্রাফিক ট্রানজিশন, ইভলভিং ফ্যামিলিস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ দ্য কেয়ার ইকোসিস্টেম ইন রুরাল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক শ্বেতপত্রে এই পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ একজন প্রবীণকে দেখভালের জন্য কর্মক্ষম বয়সের প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা কমে প্রায় ৫.২-তে দাঁড়াতে পারে। ২০০১ সালে এই অনুপাত ছিল ৮.৪। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রবীণদের দেখাশোনা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার উপর পরিবারের পাশাপাশি সরকারের চাপও বাড়তে পারে (Population)।
এই পরিবর্তনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সমীক্ষায় জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা এবং জনগণনা-সহ বিভিন্ন সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গিয়েছে, দেশে পরিবারের আকার আগের তুলনায় ছোট হচ্ছে। একই সঙ্গে কাজের সন্ধানে তরুণ প্রজন্মের একাংশ শহর বা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। ফলে একদিকে পরিবারের মধ্যে বয়স্ক সদস্যের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তাঁদের পাশে নিয়মিত থাকার মতো পরিবারের সদস্য কমছে। পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এখনও দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ প্রবীণের দেখভালের প্রধান দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের উপরই নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে এই পারিবারিক কাঠামো কতটা সেই দায়িত্ব সামলাতে পারবে, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে।
রিপোর্টে প্রবীণদের যত্নের পাশাপাশি মহিলাদের উপর থাকা অদৃশ্য পরিচর্যার চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় মহিলারা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০৫ মিনিট বেতনহীন গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সময় মাত্র ৫৬ মিনিট। প্রবীণদের দেখভাল, অসুস্থ পরিবারের সদস্যের পরিচর্যা এবং দৈনন্দিন সংসারের কাজের বড় অংশই অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের উপর বর্তায়। পাশাপাশি দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ডায়াবিটিস, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষদের পরিচর্যার প্রয়োজনও আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন: আজ অবধি সময়! এই কাজ না করলে বেশি টাকায় কিনতে হবে রান্নার গ্যাস, গ্রাহকরা জানুন
এই পরিস্থিতিতে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করছে টিআরআই। প্রবীণ, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন যত্নের জন্য স্থানীয় স্তরেই একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ‘নেবারহুড অফ কেয়ার’ বা প্রতিবেশভিত্তিক পরিচর্যার মডেলের মাধ্যমে গ্রাম পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় করার সুপারিশ রয়েছে। অর্থাৎ আগামী দিনের ভারতের সামনে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, দ্রুত বদলে যাওয়া জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি টেকসই পরিচর্যা ব্যবস্থাও তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে (Population)।













