RBI-র মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের কোষাগারে আসবে ৫০ বিলিয়ন ডলার, বাড়বে রুপির শক্তি

Published on:

Published on:

50 billion dollars will come to India's treasury, what does the SBI Research Report say?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় অর্থনীতি সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত ইতিবাচক খবর এবার সামনে এসেছে। মূলত, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা SBI-এর রিসার্চ রিপোর্ট (SBI Research Report) অনুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের (India) ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস (BoP) ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি উল্লেখযোগ্য সারপ্লাসে থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জানিয়ে রাখি যে, সারপ্লাস তথা উদ্বৃত্ত বলতে ”সঞ্চয়’ বা ‘অতিরিক্ত অর্থ’ বোঝায়। এর অর্থ হল, দেশ থেকে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণে ভারতে প্রবেশ করছে। এর সুবিধা হল যে, চলতি হিসাবের ঘাটতি তথা CAD GDP-র মাত্র ১ শতাংশে সীমিত থাকবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে। যা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

SBI রিসার্চ রিপোর্টে (SBI Research Report) বড় তথ্য:

RBI-এর সুচিন্তিত পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্য এফসিএনআর(বি) ডিপোজিট স্কিম চালু করেছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত দেশে ৫৭ বিলিয়ন ডলারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অগাস্ট মাসের বাকি দিনগুলিতে আরও ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে। এর ফলে মোট সংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। সম্প্রতি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মনিটারি পলিসি কমিটিও এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে, দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) পাশাপাশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের (FPI) প্রবাহও অত্যন্ত শক্তিশালী। যার ফলে ভারতের বাহ্যিক আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

 50 billion dollars will come to India's treasury, what does the SBI Research Report say?

বিদেশি ফান্ডের নামমাত্র খরচ: উল্লেখ্য যে, যখনই বিদেশি ফান্ড আসে, সেগুলি পরিচালনা করার জন্য একটি খরচ যুক্ত থাকে। বাজারে উদ্বেগ ছিল যে RBI-এর সোয়াপ সুবিধার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খরচ হবে। তবে, SBI রিসার্চ এই উদ্বেগগুলি খারিজ করে দিয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, ৫ বছরে মোট হেজিং খরচ হবে প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণটি ভারতের প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের মাত্র ১.৪৫ শতাংশ। এর অর্থ হল, ভারত যে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার গড়ে তুলছে, তার সুফল ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য।

আরও পড়ুন: ইতিহাসে এই প্রথম! স্থগিত টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা, চন্দ্রশেখরনের দিকেই নজর সবার

রুপির গতিবিধি শক্তিশালী হবে: এদিকে, ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও রুপিকে শক্তিশালী করেছে। এফসিএনআর(বি) ব্যবস্থা গ্রহণের পর থেকে রুপির মূল্য ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। SBI রিসার্চের মতে, অগাস্ট মাসের শেষে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ৯৫ থেকে ৯৫.৫-এ পৌঁছাতে পারে। যদিও এই শক্তি ২০১৩ সালের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে, রুপির স্থিতিশীলতার কারণে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য সস্তা হয়ে যায়। যার সুফল পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয়।

আরও পড়ুন: এবার বিদেশেও ছুটবে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস! এই দেশগুলির দিকে নজর ভারতীয় রেলের

অপরিশোধিত তেলের ঝুঁকি: বর্তমান সময়ে বিশ্ব বিভিন্ন ঝুঁকি বিরাজ করছে। আমেরিকায় ৩০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি ইল্ড প্রায় ৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছনোর ঝুঁকি রয়েছে। তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য দেশের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বিশ্বব্যাপী এই অস্থিরতা প্রশমিত করতে, RBI তার ট্রেজারিতে বৈচিত্র্য আনছে। বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে সোনার অংশ বাড়ানো হয়েছে। যা ২০২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৬.৭ শতাংশে পৌঁছেছে এবং গত ৭ অগাস্ট পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫.৩৮ শতাংশে। এই বিপুল পরিমাণ ভাণ্ডার যেকোনও বড় সঙ্কটের ক্ষেত্রে দেশের জন্য একটি সুরক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করবে।