‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’, আদালতের নির্দেশ জারি হতেই তীব্র কটাক্ষ কুণাল ঘোষের

Published on:

Published on:

Kunal Ghosh comments on Order of Calcutta High court in West Bengal Assembly Leader of Opposition case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) বিরোধী দলনেতা বানানোর সিদ্ধান্তর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta  High Court) গিয়েছিলেন শোভনদেব। রাজ্য বিধানসভার সেই সিদ্ধান্তে কোনো হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট। এই প্রসঙ্গে সুর চড়ালেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। একেরপর এক কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন ঋতব্রত থেকে শুরু করে স্পিকারের দিকে। কি বললেন তিনি? চলুন দেখে নেওয়া যাক।

‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’ বলছে মহামান্য আদালত: কুণাল ঘোষ

এদিন কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জানান, মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে ‘অস্থায়ী’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এবিষয়ে আইনের যা খুঁটিনাটি সেগুলি বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি আপনাদের বিশদে বলবেন। আমি শুধু এটুকু বলি, এই বিরোধী দলনেতা যে পদ্ধতিতে নিয়োগ হয়েছে সেই পদ্ধতির বিরুদ্ধেই তো আমরা আবেদন করেছিলাম এবং সেই আবেদন মান্যতা পেল। অর্থাৎ এটা যে স্থায়ী বিরোধী দলনেতা নয়, অস্থায়ী বা ‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’ সেটা আজ মহামান্য আদালত বলেছেন।

তাঁর মতে, এটা ওই শিবিরকে একটা বড়সড় ধাক্কা এবং বিরোধী দলনেতা যে পদটি সেটি এদের জন্য অপমানিত হল। বিরোধী দলনেতা অস্থায়ী কখনো শুনেছেন? স্পিকার সাহেব তাকে বিরোধী দলনেতা করার সময়েই আমরা বলেছিলাম, যে পদ্ধতিতে হল সেটা ঠিক নয়। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। সেই কারণেই আমরা মহামান্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। সেখানে আদালত বলে দিচ্ছে অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা। মান সন্মান থাকলে তো ইস্তফা দিয়ে দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ জবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ হবে না! ‘লাল-সবুজ’ জামান অতীত, বাংলার নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা শুভেন্দুর

বিরোধী দলনেতা পদটা কি এরকম ছেলেখেলার জায়গা?

কটাক্ষের সুর বজায় রেখে তিনি আরও বলেন, অস্থায়ী বা ঠিকা বিরোধী দলনেতা মানে কি? যাঁরা ওনাদের সঙ্গে আছেন তাদেরও ব্যাপারটা ভেবে দেখা উচিত যে এটা কি হচ্ছেটা কি! বিরোধী দলনেতা পদটা কি এরকম ছেলেখেলার জায়গা? এতটা অসম্মান? তিনি যে স্থায়ী হওয়ার উপযুক্ত নন, তাঁকে অস্থায়ী বলে সেটা প্রমাণ করে দিলেন। স্পিকার ওনাকে পুরো ঘর দিয়ে দিয়েছিলেন, এখন পুরো দেবেন নাকি অর্ধেক?

এখানেই শেষ নয়, স্পিকার তাঁকে চারচাকা গাড়ি দিয়েছিলেন। এবার অস্থায়ীকে চারচাকা দেওয়া যাবে না টু হুইলার দেবেন? এবার তো এসব কথাগুলো বলতে হবে। আমার বক্তব্য হচ্ছে, আইনি খুঁটিনাটি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলবেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতাকে বিজেপি কি চেয়েছে, তাঁরা সরকার গড়েছে নির্বাচন কমিশনের সহায়তায়। আর ভেতরে স্পিকারের চেয়ারকে ব্যবহার করে এভাবে বিরোধী দলনেতা কাউকে করে দেওয়া হল। আমরা বলছি বা রীতি বলছে যে, মাদার পার্টি তাঁরা পরিষদীয় দল ঠিক করবেন। এখানে এটা মুখ্যমন্ত্রীর পদের মত আস্থা ভোটের বিষয় নয়।

এরপর স্পিকারের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি জানান, স্পিকার মহাশয়কে পূর্ণ সন্মান জানিয়ে বলছি ‘এটা কি স্পিকার পদের জন্যও খুব সন্মানজনক হল? আপনি প্রথম স্পিকার হয়েছেন, কাউকে বিরোধী দলনেতা করে দিলেন। এবার কোর্ট বলছে তিনি অস্থায়ী। অর্থাৎ কোর্ট তাকে ডিমোশন করে দিল, বলল ঠিকা বিরোধী দলনেতা’। আর কি বললেন? দেখে নিন নিচের ভিডিওতে।