বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কোথাও ১৩, তো কোথাও ১৪ নম্বর সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে গর্ভবতী মায়ের (Pregnant Mother Death)। কেউ কেউ তো অপ্রাপ্তবয়স্ক নাবালিকা হয়েও সন্তান ধারণ করেন। যার ফলে প্রসূতি মায়ের শরীরে দেখা যায় নানারকম জটিলতা। তাই এবার রাজ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে নতুন আইন (Population Control Law) আনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করছে বর্তমান রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে চিন্তাভাবনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের!
দুইয়ের বেশি সন্তান নিলেই এবার বিরাট শাস্তি? নতুন আইন আনার ভাবনা সরকারের! সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, ১৩ থেকে ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে গর্ভবতী মায়েদের। এই ভয়াবহ ঘটনায় কি এবার বদলাতে চলেছে নিয়ম? ঠিক কি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বাংলার সরকার?
পশ্চিমবঙ্গের গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যু কমাতে এবার বড় ধরনের পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। স্বামী স্ত্রীর সংসারে সর্বোচ্চ দুটি সন্তান নেওয়ার নীতি নিয়ে নতুন আইন আনা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তাভবনা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যভবনে প্রসূতি বা মাতৃমৃত্যু নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঠিকা বিরোধী দলনেতা’, আদালতের নির্দেশ জারি হতেই তীব্র কটাক্ষ কুণাল ঘোষের
রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের পর্যালোচনায় মাতৃমৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়। প্রথমত অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ এবং একের পর এক সন্তানের জন্ম দেওয়া। স্বাস্থ্য দপ্তরের বৈঠকে জানানো হয়েছে, কয়েকটি জেলায় এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যেখানে ১৩ বা ১৪ নম্বর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী একের পর এক গর্ভধারণের ফলে মায়ের শরীরে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা পরপর একাধিক সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন তাঁদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান না থাকলে ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি নাবালিকা গর্ভধারণ নিয়েও স্বাস্থ্যদপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের সুতি১ সুতি দুই এবং সামশেরগঞ্জের মত এলাকায় এই প্রবণতা নিয়ে বিশেষ চিন্তা রয়েছে।অল্প বয়সে গর্ভধারণের ফলে মা এবং সদ্যোজাত দুজনেরই নানান ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা গর্ভধারণ বন্ধ করতে আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা একটি পরিবারে দুটির বেশি সন্তানের পর পরিবার পরিকল্পনার দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রতে পরিবার পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী ও সাময়িক গর্ভনিরোধক বিনামূল্যে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। পরিবারের প্রয়োজন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মানুষকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে দুটি সন্তান নীতি নিয়ে যে আইন আনার কথা আলোচনা হয়েছে, সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়নি। অর্থাৎ এই মুহূর্তে এটিকে সরকারের বিবেচনাধীন প্রস্তাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইন হলে তার নিয়ম কি হবে,কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, কোন বিশেষ ছাড় থাকবে কিনা বা কোনো বিশেষ ছাড় থাকবে কিনা এই বিষয় এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।













